কৃষকরা জানান, এ বছর শ্রমিকের মজুরি, জ্বালানি তেল, সার ও কীটনাশকের দাম বেড়েছে। এ কারণে আউশের আবাদ করতে বিগত বছরের তুলনায় প্রায় ২ হাজার টাকা উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এতে জমি রোপণ থেকে শুরু করে ধান কৃষকের ঘরে উঠানো পর্যন্ত খরচ হচ্ছে বিঘাপ্রতি প্রায় ৮-১০ হাজার টাকা। বিঘাপ্রতি ফলন হচ্ছে ১৭-২০ মণ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি ধান কেটে ঘরে তুলছেন চাষিরা। বাজারে প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৯০০-৯৫০ টাকা দরে। তবে প্রতিমণ ধান ১২শ টাকা হলে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে লাভ থাকবে।
শ্রমিক দ্বিপেন চন্দ্র বর্মন জানান, বিঘাপ্রতি জমিতে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা চুক্তিতে ধান কাটছেন তারা। আবার কোথাও প্রতিমণে ৬-৭ কেজি হিসেবে মজুরি নেয়া হচ্ছে। এ বছর ধানের ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকরাও খুশি।
.png)
মহাদেবপুর উপজেলার দারশা গ্রামের কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, বিঘাপ্রতি জমিতে ধানের চারা লাগানো থেকে শুরু করে ঘরে উঠানো পর্যন্ত প্রায় ৮-১০ হাজার টাকা খরচ হয়। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিঘাতে ১৭-১৯ মণ হারে ফলন হয়েছে। প্রতিমণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৯০০-৯৫০ টাকা। ধানের দাম তুলনামুলক কম। তবে লাভ না হলেও লোকসান হয়নি।

শ্যামপুর গ্রামের কৃষক ইছাহাক আলী বলেন, চার বিঘা জমিতে আউশের আবাদ করেছি। বর্ষা মৌসুমে জমিতে পানি সেচ কম লাগে। নলকূপের মালিকদের বিঘাপ্রতি ১ হাজার টাকা দিতে হয়। কারণ বর্ষা মৌসুমে প্রায় বৃষ্টি হয়। এতে পানি সেচ কম লাগে। বৃষ্টি হলে ফলন ভালো হয়।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ বছর জেলায় ৬৭ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে অনাবৃষ্টির কারণে এর বিপরীতে ৫৮ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। তবে ফলন ভালো হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এরমধ্যে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। ব্রি-৪৮ ও ব্রি-৯৮ জাতের ধানে ভালো ফলন হয়েছে। গড়ে ৩ দশমিক শূন্য ৫ টন চাল এবং ৪ দশমিক ৫ টন ধান উৎপাদন হচ্ছে। যা বিগত বছরের তুলনায় বেশি। এছাড়া রোপা আমন থেকেও বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে।