মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর ও সিরাজদিখানের ইছামতি নদী ও আড়িয়াল বিল কেন্দ্রিক জীবনযাত্রায় বর্ষাকালে এক সময় মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা ছিলো এ কোষা নৌকা। বর্ষা এলেই এ দুই উপজেলায় নৌকা- বিশেষত কোষা তৈরির ধুম পড়ে। নৌকার কারিগরদের এখন দম ফেলার ফুসরত নেই। নৌকা বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। মেহগনি, কড়ই, আর চাম্বলের পাশাপাশি মাটিয়া তেল, আলকাতরা, তারকাটা, গজালের পসার এখন জমে উঠেছে। কারণ এসব কাঠ, আলকাতরা আর তেলই হচ্ছে নৌকা তৈরির প্রধান উপকরণ।
নবাবগঞ্জ ভাঙ্গাভিটা গ্রামের কোষা নৌকা বিক্রেতা চাঁন শিবু মন্ডল বলেন, দুইশ বছরের বেশি হবে, এখানে হাট বসে। আমার বাপ-দাদারা এ হাটে নৌকা বিক্রি করছেন। আমরাও এ হাটে নৌকা বিক্রি করতে এসেছি। আগে নৌকা বানানোর লোক কম ছিল। এখন লোক বেশি, ১০০ নৌকার মধ্যে বিক্রি হয় ৫০টা।
.png)
কোষা নৌকা বিক্রেতা নজরুল ব্যাপারী বলেন, নবাবগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলা থেকে অনেকেই এই হাটে কোষা নৌকা কিনতে ও বিক্রি করতে আসে। কোষা বেশি আসে সিরাজদিখানের শেখেরনগর গ্রাম, সিরাজদিখান বাজার, ইছাপুরা বাজার, তালতলা বাজার ও ভবানিপুর গ্রাম থেকে। এছাড়াও নবাবগঞ্জের বাগমারা, ভাঙ্গাভিটা এলাকা থেকেও আসে অনেকে। তবে সব জায়গায় রাস্তাঘাট হয়ে যাওয়ায় এখন আর তেমন কোষা কিনতে আসেনা কাষ্টমাররা। বড় একটা কোষা বানাতে ৪-৫ হাজার টাকা লাগে, কাষ্টমার ২-৩ হাজার টাকার বেশি বলে না।

আরেক নৌকা বিক্রেতা আজিম মিয়া বলেন, প্রতি সপ্তাহে প্রায় দুইশ কোষা বিক্রি হয় এ হাটে। পানি কমে যাওয়ার কারণে কোষা বিক্রি কমে গেছে।
সিরাজদিখান উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের কোষা তৈরির কারিগর কৃষ্ণ মন্ডল। ৩২ বছর ধরে নৌকা তৈরি করে আসছেন তিনি। বৃদ্ধ এ কারিগর বলেন, এবার পানি না থাকায় কোষা বিক্রি কমে গেছে।
শিবরামপুর হাটের ইজারাদার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম হতো বেশি কিন্তু এখন নৌকার কদর কমে গেছে। বর্ষাকাল কেন্দ্রিক নৌকা বেচাকেনা হয় বেশি । ১০-১৫ বছর আগেও এই হাটে ৩০০-৪০০ নৌকা বিক্রি হতো। এখনতো প্রতি হাটে ২০-২৫টা নৌকা বিক্রি করা কষ্ট ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।