এখলাছ মিয়া উপজেলার চানগাঁও ইউপির চানগাঁও-চকপাড়া ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য। তার দাবি নির্বাচিত হওয়ার আগ থেকেই কাপড় ইস্ত্রির কাজ করেন। তখন এলাকার সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের কথা শুনে তার জনপ্রতিনিধি হওয়ার ইচ্ছা জাগে। এরপর ২০০৩ সালে প্রথম নির্বাচন করেন। সেই নির্বাচনে তিনি নির্বাচিত হন। তারপরও কাপড় ইস্ত্রির কাজ বাদ দেননি তিনি।
এরপর ২০১১ সালে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন। তখন সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে ২০১৬ সালে ও ২০২২ সালের নির্বাচনে তাকে ভোট দিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার নির্বাচিত করেন। এখনো তিনি ইস্ত্রির কাজ করেই সংসার চালান।
.png)
জানা গেছে, উপজেলার চানগাঁও গ্রামের মৃত সুরাফ আলীর ছেলে এখলাছ মিয়া। মেম্বার হওয়ার আগে থেকেই দরিদ্র পরিবারের হাল ধরতে তিনি কাপড় ইস্ত্রির কাজ শুরু করেন। ৩০-৩৫ বছর ধরে তিনি কাপড় ইস্ত্রির কাজ করে ও অন্যে জমি বর্গায় চাষাবাদ করে সংসার চালাচ্ছেন। এখলাছ মিয়া পরিবারে স্ত্রী এক মেয়ে ও দুই ছেলে।
এখলাছ মিয়ার কোনো কৃষিজমি নেই। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া বসতঘরে স্ত্রী, দুই ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে থাকেন তিনি। কাপড় ইস্ত্রি করে দিনে ৫০০-৬০০ টাকা পান। এই আয় দিয়ে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়াসহ সংসার চালান তিনি।
চকপাড়া ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নজুফা আক্তার বলেন, বিনা টাকায় আমাকে খাদ্য সহায়তার ভিজিডি কার্ড করে দিয়েছেন এখলাছ। আমরা অনেক গরিব মানুষ। আগে আমার শাশুড়ি বিধবা ভাতা পেত, এখন আমি প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল পাচ্ছি। তিনি গরিব মানুষের জন্য কাজ করছেন।
ইউপি সদস্য এখলাছ মিয়া বলেন, মানুষের ভালোবাসায় তিনবার মেম্বার নির্বাচিত হয়েছি। সাধ্যমতো পাশে থেকে মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করছি। কিন্তু নিজের পরিবার ও ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ মেটাতে ৩০-৩৫ বছর যাবৎ কাপড় ইস্ত্রির কাজ করে আসছি। নির্বাচন চলাকালীন সময়ও দিনের বেলা ইস্ত্রির কাজ করেছি রাতে ভোটারদের কাছে গিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, আমার ওয়ার্ডের ভোটাররা আমার প্রতি যে ভালোবাসা দেখিয়ে বারবার নির্বাচিত করেছে সেই লক্ষ্যে তাদের জন্য আমি কাজ করার চেষ্ট করছি। আমি চকপাড়ার সর্বস্তরের মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ। আমাকে বারবার তাদের পবিত্র ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। আমি যতদিন বেঁচে আছি তাদের জন্য কাজ করে যেতে চাই।
চানগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল আলম তাদুকদার বলেন, আমি তিনবার চেয়ারম্যান হয়েছি। ঐ তিনবার এখলাছও মেম্বার হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দ অনুযায়ী ৯ নম্বর ওয়ার্ডে যা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তা সঠিকভাবে বিতরণ করছেন তিনি। এখলাছের কার্যক্রমে ঐ ওয়ার্ডের মানুষ সন্তুষ্ট।
তিনি আরো বলেন, কাপড় ইস্ত্রি করে সংসার চালান এখলাছ। কাজের ফাঁকে গ্রামে ঘুরে ঘুরে মানুষের খোঁজ নেন তিনি। অসচ্ছলতার মধ্যেও তিনি মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। দারিদ্রতার মধ্যে থেকেও নিঃস্বার্থভাবে জনপ্রতিনিধিত্ব করার নজির কম। তিনি বর্তমান সমাজের জন্য এক বড় দৃষ্টান্ত।