সৌদি মালিক ও হেলিকপ্টার দেখেতে পল্লী মঙ্গল ইউনাইটেড একাডেমি অ্যান্ড কলেজে মাঠে ভিড় করে শিশু, নারীসহ নানা বয়সের মানুষ। এ সময় সৌদি নাগরিককে ফুলেল অভ্যর্থনা জানায় গ্রামবাসী।
‘প্রবাসীর হেলিকপ্টার’ নামে একটি কোম্পানির হেলিকপ্টারে বাড়িতে আসেন লালন শেখ। তাদের সেবায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন সৌদি প্রবাসী। এছাড়া অন্যদেরও কোম্পানিটির সেবা গ্রহণের আহ্বান জানান।
.png)
জানা গেছে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কাজুলিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের মোসলেম শেখের ছেলে লালন শেখ দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের রিয়াদের নাদিম শহরের বাসিন্দা বন্দর এনাজি আশসাই মালিকানাধীন একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। চাকরির সুবাদে মালিক বন্দর এনাজি আশসাই’র সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রবাসী লালন শেখ তার ভাতিজার বিয়েতে মালিক বন্দর এনাজি আশসাইকে দাওয়াত দিলে তিনি বাংলাদেশে আসার আগ্রহ প্রকাশ করে।
বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টায় সৌদি আরবের বিমানে করে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তারা। পরে বেলা ১২টার দিকে ‘প্রবাসীর হেলিকপ্টার’ কোম্পানির হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের পল্লী মঙ্গল ইউনাইটেড একাডেমি অ্যান্ড কলেজে মাঠের অস্থায়ী হেলিপ্যাডে অবতারণ করে। এ সময় স্থানীয়রা বন্দর এনাজি আশসাইকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন গ্রামবাসী। পরে সেখান থেকে নিজ বাড়িতে সৌদি মালিককে নিয়ে যান লালন শেখ।
এদিকে, প্রবাসী লালন শেখের সঙ্গে তার সৌদি মালিক (কফিল) গ্রামে আসার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে বেশ কয়েকদিন ধরে কাজুলিয়া গ্রামবাসীর মধ্যে চলছিল উৎসাহ উদ্দীপনা। সৌদি থেকে আসা নাগরিককে বরণ করে নিতে নেয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রবাসী লালন শেখের সঙ্গে তার সৌদি মালিক (কফিল) বন্দর এনাজি আশসাই ও হেলিকপ্টার আসার খবর ছড়িয়ে পড়ে পুরো গ্রামে। এ সময় স্থানীয়রা ফুলের মালা দিয়ে বরণ করেন সৌদি প্রবাসী লালন শেখ এবং তার মালিক (কফিল) বন্দর এনাজি আশসাইকে।
সকাল থেকেই স্কুল মাঠে ভিড় করে গ্রামবাসী। বাড়িতে পৌঁছানোর পর সৌদি নাগরিককে দেখতে লালন শেখের বাড়িতেও ভিড় করেন উৎসুক জনতা। পরে গ্রামবাসীর সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজনে অংশ নেন সৌদি নাগরিক বন্দর এনাজি আশসাই।
কাজুলিয়া গ্রামের রফিক শেখ বলেন, এর আগে কখনো কেউ আমাদের গ্রামে হেলিকপ্টারে করে আসেনি। আমাদের গ্রামের ছেলে লালন শেখের সঙ্গে এসেছেন তিনি।
আবুল জানলাম শেখ বলেন, হেলিকপ্টারে করে সৌদি নাগরিক এসেছেন। তাকে দেখেছি। এমনকি লালন শেখের বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে খাবার খেয়েছি। তিনি এত বড় মাপের মানুষ হলেও তার মধ্যে কোনো অহংকার নেই।
সৌদি প্রবাসী লালন শেখ বলেন, আমার কফিল (মালিক) বন্দর এনাজি আশসাইকে আমার ভাতিজার বিয়ের দাওয়াত দিলে তিনি আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সেই সূত্রে তিনি আমার ভাতিজার বিয়ের দাওয়াত খেতে আমাদের বাড়িতে এসেছেন। আমার ভাতিজাও আমার কফিলের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে। তিনি আমাদের বাড়িতে দুই সপ্তাহের মতো থাকবেন। পরে আমি আর আমার কফিল একসঙ্গে সৌদি ফিরে যাবো।
নিজ কর্মীর বাড়ি বাংলাদেশে এসে কেমন লাগছে; জানতে চাইলে সৌদি নাগরিক বন্দর এনাজি আশসাই বলেন, বাংলাদেশ আমার দ্বিতীয় বাড়ি। এখানকার মানুষ খুবই ভালো। এখানে আসতে পেরে খুবই ভালো লেগেছে। এখনকার মানুষের ভালোবাসা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি প্রায় দুই সপ্তাহ থাকবো। এখানকার প্রতিটি এলাকা আমি ঘুরে দেখবো। এছাড়া আমার এক কর্মীর বিয়ের দাওয়াতে অংশ নেব। এখান থেকে ফিরে আমার প্রতিষ্ঠানে এই এলাকার আরও কর্মী নিব আমি। এ সময় তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করারও আশা প্রকাশ করেন।