ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

আমন চারা বিক্রিতে লাখপতি হারুন

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশিত: ২১:০৪, ৪ অক্টোবর ২০২৩
আমন চারা বিক্রিতে লাখপতি হারুন
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মৌসুমি আমন ধানের চারা বিক্রি করে লাখপতি হয়েছেন মো. হারুন মিয়া কৃষক। প্রতি বছরের মতো এবারও উচ্চফলনশীল জাতের আমন ধানের বীজতলা তৈরি করেন তিনি। ছয় লাখ টাকার ধান চারা বিক্রি করে এলাকায় বাজিমাত করেছেন।

কৃষক হারুন আখাউড়া পৌরশহরের তারাগন এলাকার বাসিন্দা। তার পরিবারে স্ত্রী, ইয়িনি ছেলে ও তিন মেয়েসহ আট সদস্য রয়েছেন। বাড়ির জায়গা ছাড়া কৃষি কাজ করার অন্য কোনো জায়গা নেই। মৌসুমি ধান চারা বিক্রি, কৃষি কাজ আর ভ্রাম্যমাণ চা বিক্রিতে চলে তার সংসার।

হারুন জানান, দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর ধরে জমি বর্গা (ইজারা) নিয়ে মৌসুমি আমন চারা বিক্রি করছেন। চলতি মৌসুমে তিনি ১০ বিঘা জমি বর্গ নিয়ে উচ্চফলনশীল জাতের ৪০ মণ ধানের বীজতলা তৈরি করেন। এজন্য প্রতি বিঘা জমিতে জমা দিতে হয়েছে ১২ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে বীজ ধান দেওয়া হয় চার মণ। প্রতি বিঘায় হালচাষসহ মোট খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকার উপর। সব মিলিয়ে ১০ বিঘা জমিতে বীজতলা তৈরিতে তার খরচ হয়েছে দুই লাখ টাকা। আর চারা বিক্রি হয় ৬ লাখ টাকার।

Advertisement

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে আমন চারা কিনে থাকেন। এছাড়া সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় অনেকে এখান থেকে চারা কিনে অন্য জেলাতেও বিক্রি করেন। সময়মতো বীজতলা তৈরি ও দাম ভালো থাকায় চারা বিক্রিতে লাভবান হয়েছেন হারুন। এছাড়া যে জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে চারা বিক্রি শেষে সেখানে সরিষা আবাদ করবেন।

তিনি আরো জানান, ধান বীজ পানিতে ভিজিয়ে প্রস্তুত, জমি তৈরিসহ আবাদ উপযোগী হতে এক মাস সময় লাগে। এরপর ১৫ দিনের মধ্যে সব চারা বিক্রি হয়ে যায়। কম শ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় প্রতি বছর বাড়ছে তার বীজতলা তৈরির জমির পরিমাণ। বীজতলা বা চারা ভালো রাখতে কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ নেন তিনি।

এছাড়া তার অবসরের বেশিভাগ সময় কাটে পৌরশহরের সড়ক বাজার এলাকায় চা বিক্রির মাধ্যমে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আমন মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নিচু জমিতে পানি থাকায় অনেক কৃষকরা আমন বীজতলা তৈরি করতে পারেন না। আবার অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে অনেক কৃষকের আমন বীজতলা নষ্ট হওয়ায় তাদের চারা কেনার উপর নির্ভর করতে হয়। ফলে এ মৌসুমে স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকদের কাছে আমন চারার কদর থাকে বেশি। তাই অনেক কৃষক হারুনের কাছ থেকে আমন চারা কিনে জমি আবাদ করেন।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আখাউড়ার নোয়াগাও এলাকার কৃষক মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, বৃষ্টির কারণে তার তলিয়ে গিয়ে বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। তাই জমি আবাদ করতে তারাগন এলাকার কৃষক হারুন মিয়ার কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করেন। প্রতি বিঘা জমির চারা ১২শ’ টাকায় কেনেন। গত বোরো মৌসুমে ধানের ফলন ও বিক্রিতে ভালো দর পাওয়ায় তিনি বেশ লাভবান হয়েছেন। তাই এ মৌসুমে তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেন।

সেন্দাই শিলাউর এলাকার কৃষক রফিক মিয়া জানান, তিন বছর ধরে কৃষক হারুন মিয়ার কাছ থেকে আমন চারা ক্রয় করে জমি আবাদ করছেন। এবারও চার বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছেন। হারুনের আমন চারার মান খুবই ভালো। জমিতে ফলন ভালো হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় আমন ধান আবাদ শেষ হয়েছে। কৃষকরা উচ্চফলনশীল নানা জাতের ধান চারায় জমি আবাদ করছেন। কৃষক হারুন আমন বীজতলা তৈরি করে জমি আবাদে কৃষকের ভালো সহযোগিতা করছেন। তার চারার মান খুবই ভালো। এজন্য কৃষকরা তার কাছ থেকে কিনে জমি আবাদ করেন।

তিনি আরো বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে চলতি মৌসুমে আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!