ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

হত্যার পর যুবকের পা কর্তন, রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন আসামিরা

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:০৭, ১৪ অক্টোবর ২০২৩
হত্যার পর যুবকের পা কর্তন, রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন আসামিরা
গ্রেফতারকৃতরা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কক্সবাজারের পেকুয়ায় চাঞ্চল্যকর আবু ছৈয়দকে হত্যার পর পা কেটে নেয়ার ঘটনায় অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী নেজামুল ইসলাম মোজাহিদসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৫। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দেন আসামিরা। 

শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতারকৃতদের তথ্য নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারস্থ র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়নের আফজালিয়াপাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে নেজামুল ইসলাম মুজাহিদ, একই এলাকার মৃত নুরুন্নবীর ছেলে আমিরুজ্জামান  ও মৃত নুরুন্নবীর ছেলে জামিল ইব্রাহিম ছোটন। এ নিয়ে মামলাটির ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও র‌্যাব।

Advertisement

র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, গত ১০ অক্টোবর বিকেলে পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের আফজলিয়াপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে আবু ছৈয়দকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার পর তার একটি পা কেটে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় আবু ছৈয়দের স্ত্রীসহ চারজন গুরুতর আহত হন। হত্যাকাণ্ডের পর দিন ১১ অক্টোবর নিহতের ছেলে ছৈয়দ মোহাম্মদ ইমন বাদী হয়ে ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করে পেকুয়া থানায় মামলা করেন। বিষয়টি নিয়ে র‌্যাব-১৫ ছায়াতদন্ত শুরু করে।

তিনি আরো বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে পেকুয়ার আফজালিয়াপাড়ায় আত্মগোপনে থাকা মামলার ২ নম্বর আসামি ও অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী নেজামুল ইসলাম মোজাহিদসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকার করেন এবং ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দেন আসামিরা।

জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, ঘটনার ৩ দিন আগে হত্যাকারীরা নিজেদের মধ্যে গোপন বৈঠক করে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১০ অক্টোবর বিকেলে আবু ছৈয়দ তার শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছেন, এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে হানা দেন আসামিরা। একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আবু ছৈয়দকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। প্রাণ বাঁচাতে আবু ছৈয়দ খাটের নিচে ঢুকে পড়লে সেখান থেকে তাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে হাত-পা চেপে ধরে কোপানোর পর মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যান। এ সময় আবু ছৈয়দের ডান পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে যান তারা। এ ঘটনায় ২৫ জনের সশস্ত্র একটি দল অংশ নেন। এ সময় স্থানীয় লোকজনদের অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি দেন তারা। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা শেষে থানায় হস্তান্তর করা হবে। পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাবের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!