ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে মারধর-নির্যাতন করেন ছাত্রদল নেতা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:০৫, ১৪ অক্টোবর ২০২৩
যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে মারধর-নির্যাতন করেন ছাত্রদল নেতা
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা ইকবাল হোসেন জীবন

গোপনে বিয়ে করে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া থাকা অবস্থায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন জীবনের (৩৩) বিরুদ্ধে। সম্প্রতি এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্ত্রী মিথিলা আক্তার (২১) বাদী হয়ে সদর থানায় একটি অভিযোগ করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার ধানবান্ধি মহল্লার মানিক শেখের মেয়ে মিথিলা আক্তারকে গোপনে কোর্টের মাধ্যমে বিয়ে করেন সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন জীবন। বিয়ের পর থেকে শহরের মাছুমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় স্বামী-স্ত্রী মিলে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।

ভাড়া থাকা অবস্থায় শহরের সয়াগোবিন্দ (থানা রোড) মহল্লার আসাদ আলীর ছেলে ইকবার হোসেন জীবন বিভিন্ন সময় ব্যবসার কথা বলে দফায় দফায় প্রায় ১০ লাখ টাকা নেন। পুনরায় আরো পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন জীবন। তার দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকার করায় শুরু হয় মারধর ও নির্যাতন।

Advertisement

ভুক্তভোগী মিথিলা আক্তার বলেন, দেড় বছর আগে ইকবাল হোসেন জীবন আমাকে কোর্টে নিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের ডকুমেন্ট আমাকে না দিয়ে নিজ হেফাজতে রাখেন। এই দেড় বছর সংসার জীবনে আমি ২ বার অন্তঃসত্ত্বা হই। আমাকে ভুল বুঝিয়ে গর্ভের সন্তান নষ্ট করে ফেলেন জীবন। আমাকে স্ত্রীর অধিকার থেকে বঞ্চিত করার পাঁয়তারায় গত (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এতে আমি রাজি না হলে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করেন।

তিনি আরো বলেন, ইকবাল হোসেন জীবন আমাকে বিয়ে করেনি বলে তার পরিবারকে অবগত করেন। আমি জীবনের বাড়িতে অবস্থান নিলে তার পিতা আসাদ আলী ও জীবনের আত্মীয় রিয়াদ ও হারুন ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেন। পরে আমি নিরুপায় হয়ে গত ২৬ সেপ্টেম্বর সদর থানায় জীবনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছি। জীবন আমাকে স্ত্রীর মর্যাদা না দিলে আমার আত্মহত্যা ছাড়া কোনো পথ থাকবে না। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন জীবনের নম্বরে কয়েকবার ফোন দেওয়া হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

সিরাজগঞ্জ সদর থানার এসআই হৈয়মন্ত বার্মা বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!