গোবরচাপা বিল, সাতবিল, গোপাইবিল, ট্যাংগার বিল, কুমিরখাকী বিল, লোহাগড়া বিল, নিশ্চিন্তপুরের বিল, সাতবেকী বিল, মধু ডাঙাবিল, হুরমোর বিলসহ আরো অর্ধশত বিল রয়েছে সোনাতলায়। এরমধ্যে অন্যতম প্রধান বিল গোবরচাপা বিলে কেটেছে আমার শৈশব। দুরন্তপনায় ছুটে গিয়েছি বারবার এই বিলের কাছে। এখনও সুযোগ পেলে চলে যাই এই বিলে। মোহ, মায়ায় ভরা বিলগুলো।
রোববার বিকেলে বিলে গিয়ে দেখা মেলে লাল লাল শাপলা ও শালুক ফুল। সূর্যের তাপ কমে আসায় বিলের সৌন্দর্য যেন আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। আর তাতেই ছোটছোট ছেলে-মেয়েরা দলবেঁধে শাপলা ফুলের ডাটা সংগ্রহ করছে।
.png)
এই ফুল তুলে কি করবে- এমন প্রশ্নের জবাবে স্নেহা নামে সাড়ে ছয় বছর বয়সী ছোট্ট একটা মেয়ে আমতা আমতা করে বলে, এগুলো দিয়ে খেলবো, মাথায় দিয়ে সাজবো। আর আম্মু রান্না করবে।
আবির নামে এক বালক বলে, আমি এগুলো হাটে বিক্রি করবো। এতে ৩০ টাকার মতো পাবো, তা দিয়ে সদাই (মিঠাই) কিনে খাবো।

শুনে আমিও বাসার জন্য তার কাছ থেকে বিশ টাকা দিয়ে বেশকিছু শাপলার ডাটা কিনে নিলাম। এরপর চলে গেলাম আরো কয়েকটি বিলে। দুইদিনে সাতবেকী, সাতবিল, মাধুডাঙা বিল ঘুরে দেখলাম একই দৃশ্য। সবগুলো বিলেই ফুটে আছে লাল শাপলা। শুধু তাইনা ছোট-বড় জলাশয়গুলোতেও একই চিত্র। সেখানে ছোট ছেলে মেয়েদের ভিড়। দুই চারজনকে দেখলাম নৌকা নিয়েও ঘুরতে।
স্থানীয় কৃষক আবুল বারী জানান, বৃষ্টির সময়ে বিল ভরে উঠলে শাপলা ফুলের দেখা মেলে। তবে এ ফুল আরো দুই একমাস পর্যন্ত দেখা যাবে অর্থাৎ নভেম্বর ডিসেম্বর পর্যন্ত।
সন্ধ্যায় সোনাতলা বড় বাজারে এসে দেখলাম শাপলা ফুলের ডাটা ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বললাম কোথা থেকে সংগ্রহ করছেন এগুলো। উত্তর আসলো আশেপাশের বিল থেকে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন জানান, শাপলা একটি জলজ উদ্ভিদ। সোনাতলায় সাধারণত তিন ধরনের শাপলা দেখা যায়। তবে লাল রঙের শাপলা ফুল সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ভৌগোলিক কারণে সোনাতলায় বিলের সংখ্যা বেশি। এই বিলগুলোতে লাল শাপলা শোভা ছড়াচ্ছে। অনেকে এই ফুল রান্না করেও খাচ্ছেন। শুধু এই অঞ্চলে নয়, সারাদেশেই সুস্বাদু সবজি হিসেবে শাপলা ফুল ও এর ডাটা খাওয়া হয়।