মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে তারা বিনা পয়সায় সওয়াবের আশায় এ কাজ করছেন। এরমধ্যে কেউ কেউ দুইশ থেকে ৩ শতাধিকের ওপরে কবর খুঁড়েছেন। নিজ এলাকাসহ পার্শবর্তী এলাকার কোনো মানুষের মৃত্যুসংবাদ শুনলেই কারো ডাকের অপেক্ষা করেন না তারা। কবর খোঁড়াই যেন তাদের এখন নেশা হয়ে গেছে। বিনা পারিশ্রমিকে দীর্ঘদিন ধরে তারা এ মহৎ কাজটি করে আসছেন।
পৌর শহরের তারাগন এলাকার মো. শাহআলম বলেন, পেশায় আমি একজন কৃষক। পাশাপাশি অবসর সময় দৈনিক মজুরিতে এলাকায় কাজ করছি। নিজ এলাকার আপনজনসহ কোনো আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব কেউ মারা গেলে ছুটে যাই কবর খুঁড়তে। পার্শ্ববর্তী গ্রামের কোনো মানুষের মৃত্যুর খবর শুনতে সেখানে যাই কবর খোঁড়ার জন্য।
.png)
তিনি জানান, মানবিক দায়িত্ববোধ আর সওয়াবের আশায় দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরের ওপর ধরে মৃত মানুষের জন্য তাদের শেষ ঠিকানা কবর খোঁড়ার কাজ করছেন তিনি। এ পযর্ন্ত প্রায় দুই শতাধিক কবর খোঁড়ার পাশাপাশি মৃত্যু ব্যক্তিকে কবরে শুয়িয়েছেন। এরমধ্যে তারাগন, কালিনগর, ধাতুরপহেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কবর খুঁড়েছেন তিনি।
মোহাম্মদ আবু তাহার মিয়া জানান, তিনি একজন কৃষক। দীর্ঘ বছর ধরে জমি চাষাবাদ করছেন। যখন থেকে বুঝি তখন থেকে কৃষি কাজের পাশাপাশি কোথাও মানুষ মারা যাওয়ার খবর কানে আসা মাত্র সব কিছু ফেলে কবর খুঁড়তে ছুটে যান। এভাবে প্রায় ৩০ বছর ধরে বিনা পয়সায় কবর খোঁড়ার কাজ করে আসছেন। এ পযর্ন্ত দুই শতাধিকের ওপর কবর খুঁড়েছেন।
রাজমিস্ত্রি মো. সাচ্চু মিয়া জানান, জীবিকার প্রয়োজনে দৈনিক দূর-দূরান্ত গিয়ে কাজ করতে হয় তাকে। কিন্তু এলাকার কোনো লোকের মৃত্যুর খবর শুনামাত্র ওই দিন কাজ বন্ধ থাকে। অন্যান্য লোকজনের সঙ্গে কবর খোঁড়ার কাজ করা হয়। এজন্য তার কাছে রয়েছে কোদাল, বেলচা ও দা।
তিনি বলেন, আমরা প্রথমে লাশ দেখে কবরের পরিমাপ করি। তারপর কবর খোঁড়ার উপকরণ দিয়ে কাজ শুরু করি।
অটোচালক শরীফ মিয়া জানান, মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্র কবর খোঁড়ার জন্য যান তিনি। শুধু কবর খোঁড়া নয়, তার জানাযার নামাজেও শরীক হন। আসলে কবর খোঁড়া হলো একটা মহৎ কাজ। কারণ একদিনতো সবাইকেই মরতে হবে। এ কাজটি করলে মন থেকে প্রশান্তি পান তিনি। এ পযর্ন্ত ৭০টির ওপর কবর খুঁড়েছেন তিনি।
কৃষি শ্রমিক মিলন মিয়া জানান, তিনি এ পর্যন্ত শতাধিকটিরও বেশি কবর খুঁড়েছেন। মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই সরঞ্জাম নিয়ে চলে যান কবর খুঁড়তে।
মাওলনা আবু আবদুল্লাহ বলেন, মৃত ব্যক্তির কবর খোঁড়া আসলে একটি মহৎ ও সওয়াবের কাজ। এ কাজ সবাই করতে পারে না। মানুষ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই নিজের শত কাজ ফেলে যারা কবর খুঁড়তে ছুটে যান অবশ্যই তারা প্রশংসার দাবিদার। আমি তাদের শ্রদ্ধা করি।