স্ত্রীর মরদেহ দাফন না করে নদীর বাঁধে ফেলে পালালেন স্বামী
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে স্ত্রী শারমিন খাতুনের মরদেহ দাফন না করে নদীর বাঁধে ফেলে পালিয়ে গেছেন স্বামী খোকন মিয়া। বৃহস্পতিবার দুপুরে খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এর আগে, সকালে সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের খামার বাগছী এলাকার ঘাঘট নদীর বাঁধের ওপর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত শারমিন খাতুন সাদুল্লাপুর উপজেলার হাটলক্ষীপুর এলাকার খোকন মিয়ার স্ত্রী।
সাদুল্লাপুর থানার ওসি মো. মাহবুব আলম জানান, দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন শারমিন খাতুন। চিকিৎসার জন্য স্বামী খোকন মিয়া ভ্যানে স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামে গ্রামে সাহায্য (টাকা) তুলে বেড়াতেন। সারাদিন ঘুরে যা পেতেন তা দিয়েই চিকিৎসার পাশাপাশি তাদের সংসার চলতো। প্রতিদিনের মতো গত বুধবার স্ত্রীকে নিয়ে বের হন খোকন। পরে উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের ভগবানপুর গ্রামে গেলে স্ত্রী শারমিনের মৃত্যু হয়।
এ সময় এলাকার লোকজন আর্থিক সহযোগিতা করে মরদেহ দাফনের জন্য খোকনকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু খোকন মিয়া স্ত্রীর মরদেহ দাফন না করে খামার বাগছী এলাকার বাঁধে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা একটি নারীর পরিত্যক্ত মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা করা হয়েছে। এটি হত্যা নাকি স্বাভাবিক মৃত্যু তা বলা যাচ্ছে না। মরদেহের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এছাড়া মরদেহ ফেলে স্বামী খোকন মিয়া কেন পালিয়েছেন, তা তদন্ত করা হচ্ছে।