তিলের খাজা বিক্রিতে চলে সংসার
৬৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ হানিফ। ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন তিলের খাজা। এই তিলের খাজা বিক্রির আয়ে চলে তার সংসার।
তিন মাস ধরে ভোলার লালমোহন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে তিলের খাজা বিক্রি করছেন মোহাম্মদ হানিফ। তিনি উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চরছকিনা এলাকার তালুকদার বাড়ির বাসিন্দা।
বৃদ্ধ হানিফ বলেন, আগে দিনমজুরি হিসেবে কাজ করতাম। এখন শরীরে অনেক রোগ। তাই আর দিনমজুরি করতে পারছি না। এজন্য তিলের খাজা বিক্রির উদ্যোগ নেই। গত তিন মাস ধরে এই খাজা বিক্রি করি। ১৩ টাকা করে প্রতি পিস খাজা কিনে আনি। আর আমি প্রতি পিস তিলের খাজা পনের থেকে বিশ টাকায় বিক্রি করি। এই খাজা নিয়ে প্রতিদিন সকাল ৮টায় বাড়ি থেকে বের হই। এরপর সারাদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে গিয়ে খাজাগুলো বিক্রি করি। দুপুরের খাবার হোটেলে খাই। এরপর বিক্রি শেষে আবার রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে বাড়ি ফিরি। এতে করে সারাদিনে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার খাজা বিক্রি হয়। এর মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়শত টাকার মতো লাভ হয়। এই লাভের টাকায় চলে সংসার।
.png)
তিনি আরো বলেন, আমার তিন মেয়ের মধ্যে দুইজনকে বিয়ে দিয়েছি। সংসারে এখন স্ত্রীসহ এক মেয়ে রয়েছে। ঐ মেয়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে। স্ত্রীও বয়স্ক, নিজেরও বয়স হয়েছে। দুইজনেরই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের নানাপ্রকার রোগ বাসা বেঁধেছে। প্রতি মাসে ওষুধের পিছনেই অন্তত তিন হাজার টাকার মতো চলে যায়। আর বাকি যা থাকে তা দিয়ে সন্তানকে নিয়ে সংসার চলে যাচ্ছে।
খাজা বিক্রেতা মোহাম্মদ হানিফ আরো বলেন, শারীরিক অবস্থার কারণে দিনমজুরির কাজ বাদ দিয়েছি, ধরেছি এই তিলের খাজার ব্যবসা। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সহযোগিতা পেলে ভালো হতো।
সোহান নামে এক ক্রেতা জানান, শখের বশে এই তিলের খাজা কিনেছি। এটি খেতেও অনেক মজা। এই তিলের খাজা অনেকের কাছেই খুব প্রিয় একটি খাবার। তাই আমার মতো অনেকেই কিনে খাচ্ছেন।
এ বিষয়ে লালমোহনের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে অসহায় মানুষের জন্য নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। আমরা চাই সরকারি এসব সুযোগ-সুবিধা যেন প্রকৃত ভুক্তভোগীরা পান। হানিফ নামে ঐ ব্যক্তি যদি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন তাহলে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের চেষ্টা করবো।