ছোট্ট চুলায় মাটির পাতিলে পানি ভরে মুখ লেপে ছোট করে তার ওপর পাতলা কাপড়ের আস্তরণ দিয়ে বসে পড়েন পিঠার কারিগর। পাতলা কাপড়ে মুড়ে পাতিলের ওপর বসিয়ে আগুনের তাপে পানির বাষ্প উঠে তৈরি হয় ভাপা পিঠা। এছাড়া বিভিন্ন হাট বাজারে, রাস্তার মোড়ে, পাকা রাস্তার পাশে ভ্রাম্যমাণ পিঠার দোকান ঘুরতে দেখা যায়। মূলত সকাল ও সন্ধ্যায় পিঠা বিক্রি হলেও বিশেষ করে সন্ধ্যার সময় এই পিঠার চাহিদা বেশি থাকে।
সন্ধা থেকে রাত পর্যন্ত প্রতিদিন চলে পিঠা বিক্রি ও খাওয়ার পালা। কারণ শীতের সকালে বা সন্ধ্যায় গরম গরম ধোঁয়া ওঠা ভাপা পিঠার যে স্বাদ সেটা অন্য কোনো সময় পাওয়া যায় না। আর শীতে যত রকমেরই পিঠা তৈরি হোক না কেন ভাপা পিঠার সঙ্গে অন্য কোন পিঠার তুলনা হয় না। এই পিঠা বিক্রি করেই শীতের সময় অনেকে সংসার চালান। গ্রামের হাট বাজার গুলোর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে, ফুটপাতে দোকান নিয়ে বসে পড়েছেন মৌসুমী পিঠা ব্যবসায়ীরা। অনেকেই মৌসুমী এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। তেমন একটা পুঁজি লাগে না বলে সহজেই এ ব্যবসা শুরু করা যায়। তাই তো অনেকেই মৌসুমী ব্যবসা হিসাবে এটা বেচে নেন।
.png)
এছাড়া এসব দোকানগুলোতে দেখা যায় পিঠা পাগল লোকজনদের উপচে পড়া ভিড়। বিক্রেতারাও আনন্দেও সঙ্গে ভাপা পিঠা বিক্রি করে থাকে। সাজিঊড়া মোড়, থানা মোড়, সাউদপাড়া মোড়, বাসস্ট্যান্ড মোড়সহ উপজেলা সদরের ফুটপাতে এ পিঠার দোকান দেখা যায়।শীতের পিঠা বিক্রি করে সংসারের অভাব দূর করছেন অনেকে।
জানা যায়, কেন্দুয়ায় এসব দোকান গুলোতে পিঠা বলতে পাওয়া যায় কেবল ভাপা পিঠা,ঝাল পিঠা,তেলের পিঠা ,সাদা পিঠা আর চিতই পিঠা। তাই মৌসুমি এই পিঠার প্রতি অনেকের বেশ আগ্রহও দেখা যায়। বছরের সাময়িক সময়ের এই পিঠার বাজার এখন থেকেই জমে উঠেছে, মূলত সকাল ও সন্ধ্যায় পিঠা বিক্রি হলেও বিশেষ করে সন্ধ্যার সময় এই পিঠার চাহিদা বেশি থাকে বলেও জানান বিক্রেতারা।
থানা মোড় এলাকায় প্রতিদিন পিঠা বিক্রি করেন সালমা আক্তার। স্বামী এবং সন্তানদেরকে নিয়ে জীবন যুদ্ধে একাই সংসারের হাল ধরেছেন তিনি। বছরের ছয় মাস পিঠা তৈরি ও ছয় মাস বাড়িতে থেকে কষ্ট করে চলে সালমা আক্তারের সংসার।
তিনি বলেন, স্বামী অটোরিকশা চালক আর কয়েকবছর ধরে বছরের ছয় মাস পিঠা বিক্রি করে ছেলে মেয়েদের পড়াশুনার খরচ বহন করছি। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও রয়েছে ক্রেতার ভিড়। প্রতিনিয়ত ক্রেতার ভিড় বেড়েই চলেছে। এতে আয় রোজগার ও হচ্ছে ভালো।
এভাবে শীতের পিঠা বিক্রি করে সংসারের অভাব দূর করছেন অনেকে।
ক্রেতারা বলেন, শীত মানেই পিঠা খাওয়ার ধুম। দিনের শেষে বন্ধুদের নিয়ে সন্ধ্যায় আসি ভাপা পিঠা খেতে। এতে করে সবার মাঝে ভালো লাগা কাজ করে।