অভিমানে বোনের ওড়নায় ফাঁস নিল তৌফিক
সাতক্ষীরার দেবহাটায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই শিক্ষার্থীর নাম তৌফিক হোসেন (১২)। সে উপজেলার উত্তর সখিপুর গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেনের ছেলে এবং স্থানীয় খেজুরবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র।
দেবহাটা থানার ওসি সেখ মাহমুদ হোসেন জানান, মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে ঘরের দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন পরিবারের সদস্যরা। এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তৌফিক হোসেনের বড় বোন হোসনেয়ারা পারভীন জানান, তাদের তিন বোনের একমাত্র ছোট ভাই ছিল তৌফিক। এ বছর চতুর্থ শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছিল সে। মঙ্গলবার সকালে সে স্কুলে না যাওয়ায় বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যরা তাকে বকাঝকা করেছিলেন। এতে অভিমানে সকাল থেকে না খেয়ে নিজ ঘরে বসেছিল সে। দুপুর পৌনে ২টার দিকে তৌফিকের ঘরের দরজা-জানালা ভেতর থেকে বন্ধ দেখে চিৎকার শুরু করেন তারা।
এ সময় স্থানীয়রা এসে ঘরের দরজা ভেঙে বোনের ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তৌফিককে দেখতে পান। পরে তারা থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। তাৎক্ষণিক দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি সেখ মাহমুদ হোসেন বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ ওই স্কুলছাত্রের সুরতহাল প্রস্তুত করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ওপর অভিমান করে সে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে ময়নাতদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।