ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায়। এর আগে, গত ৩১ ডিসেম্বর ঐ শিশুটি অপহরণ হয়। টানা ১০ দিন পর কিশোরগঞ্জ জেলা থেকে উদ্ধার করা হয় ঐ শিশুটিকে। এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে আঁখি আকতার মীম ও ভুয়া স্বামী সৈয়দ হোসেনকে।
বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম।
.png)
উদ্ধার হওয়া শিশু সিফাত বাংলাবাজার এলাকার আবু ছৈয়দ আজাদের ছেলে। গ্রেফতার আঁখি আকতার মীম কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের টানকৃষ্ণনগর এলাকার হেলিম মিয়ার স্ত্রী ও ভুয়া স্বামী সৈয়দ হোসেন রামুর লট-উখিয়ারঘোনা মৃত মালেকুজ্জামানের ছেলে।
পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম বলেন, মীম ও সৈয়দ হোসেন স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন শিশু সিফাতকে অপহরণের উদ্দেশ্যে। যার জন্য সিফাতের পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে মীম ও সৈয়দ। এক পর্যায়ে সাতদিনের মাথায় ৫ মাসের শিশু সিফাতকে নিয়ে পালিয়ে যান তারা। এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর থানায় মামলা দায়েরের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সৈয়দ হোসেনের ভাই সৈয়দ কাশেমকে পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
সৈয়দ কাশেমের দেওয়া তথ্যমতে, চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকা থেকে ৮ জানুয়ারি সৈয়দ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। সৈয়দ হোসেনের দেওয়া তথ্যমতে, বুধবার কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে গ্রেফতার করা হয় আঁখি আকতার মীমকে।
পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম বলেন, মীম হেলিম মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী। হেলিম মিয়ার প্রথম স্ত্রীর ঘরে রয়েছে দুটি কন্যাসন্তান। বিয়ের পরে আঁখি আকতার মীম আশা করেছিলেন তাদের ঘরে ছেলেসন্তান জন্ম নিবে। কিন্তু ৩ মাস আগে মীম জন্ম দেন এক কন্যাসন্তান। ঐ কন্যাসন্তানটিকে অন্যের কাছে বিক্রি করে দেয় এবং এরপরই শিশু সিফাতকে অপহরণ করে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দু’জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আর উদ্ধার হওয়া শিশুকে বাবা-মায়ের কাছে দেওয়ার জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান ঐ কর্মকর্তা।