ফুল মেলায় ৩ কোটি টাকার বেচাকেনা
ফুলের রাজধানী খ্যাত যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালীর পানিসারা-হাড়িয়া মোড়ে আয়োজিত চার দিনব্যাপী ফুল উৎসব শনিবার শেষ হয়েছে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় উৎসব এলাকায় শুক্র ও শনিবার ছিল দর্শনার্থীর ভিড়। গত চারদিনে মেলাকে ঘিরে অন্তত তিন কোটি টাকার বেচাকেনা হয়েছে বলে মেলা সংশ্লিষ্টরা জানান।
সরেজমিন দেখা যায়, উৎসব উপলক্ষে সড়কে বসানো হয় তোরণ। পানিসারা ও হাড়িয়া এলাকায় বিভিন্ন ফুলের খেতে ঘুরে দেখছেন ফুলপ্রেমীরা। উৎসব উপলক্ষে ফুল ক্ষেতগুলোকে দৃষ্টিনন্দন করা, পানিসারা-হাড়িয়া মোড়ে অবস্থিত রেস্টুরেন্টগুলোকেও ফুল ক্ষেতের আদলে রূপ দেওয়া হয়।
.png)
নড়াইলের লোহাগড়া থেকে মেলায় আসেন মফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ফুল চাষকে কেন্দ্র করে এ এলাকায় যে পরিবর্তন এসেছে, তা এখানে না এলে বুঝতে পারতাম না। এখানে এসে বিভিন্ন ফুল ক্ষেত দেখে ভালো লেগেছে।
সাতক্ষীরার থেকে আগত দর্শনার্থী আবু শাহরিয়ার বলেন, এখানে প্রথমবার এসেছি। তবে আসা-যাওয়ার পথ সরুর কারণে ভিড়ে ভোগান্তি হয়েছে।
ফুলের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ফুলরাজ্যকে সবার সামনে তুলে ধরতে দ্বিতীয় বার করা হলো এই উৎসব। কর্মসূচির প্রথম দিন ছিল ফুল প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান; দ্বিতীয় দিন নারী ফুল চাষিদের নিয়ে উঠান বৈঠক, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, কৃষক সমাবেশ, সম্মাননা প্রদান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শনিবার শেষদিন শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আবরাউল হাছান মজুমদার।
কথা হয় পানিসারা-হাড়িয়া ফুল মোড়ের মনোয়ার ফ্লাওয়ার পার্কের ব্যবস্থাপক মো. শাজাহান আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, শুধু শনিবার অন্তত চার হাজার দর্শনার্থী টিকিট কেটে পার্কের ভেতরে ঢুকেছেন। ফুল মেলাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অন্তত দেড় শতাধিক বিভিন্ন ধরনের দোকান।
ফ্লাওয়ার ভিলেজের ব্যবস্থাপক তারেক নেওয়াজ বলেন, ফুল ক্ষেত দেখতে এখানে শুক্রবার অন্তত এক হাজার দর্শনার্থী টিকিট কেটে প্রবেশ করেছেন।
যশোর ফুল উৎপাদন ও বিপণন সমবায় সমিতি লিমিটেডের নেতা আব্দুর রহিম বলেন, ফুল উৎসবে এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ বইছে। উৎসবে ফুল চাষি, ফুল ব্যবসায়ী, ফুলসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো অংশ নিয়েছে। ২০টি নার্সারি, তিনটি পর্যটন প্যাভিলিয়ন ও ১৬টি স্টল সেজেছে উৎসবের সাজে। পাশাপাশি গড়ে উঠেছে দেশ শতাধিক বিভিন্ন ধরনের দোকান। সব মিলিয়ে গত চারদিনে কমপক্ষে তিন কোটি টাকার হাতবদল হয়েছে মেলাকে কেন্দ্র করে।
ঝিকরগাছা ইউএনও বিতান কুমার মন্ডল বলেন, ফুলের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ফুলরাজ্যকে সবার সামনে তুলে ধরতে এই আয়োজন করা হয়। এতে ব্যাপক সাড়া পড়েছে এবং ফুল উৎসব সফল বলে মনে করছি।
যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের উপপরিচালক সুশান্ত কুমার জানান, ঝিকরগাছার গদখালী অঞ্চলে এক হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে ১১ ধরনের ফুল বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়। এ এলাকার ছয় হাজার পরিবারের দেড় লাখ মানুষ ফুল চাষের সঙ্গে জড়িত। প্রতিবছর সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকার ফুল উৎপাদিত হয় ঝিকরগাছায়।