ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

দুই কারণে মরছে শীতলক্ষ্যা নদী

ডেইলি বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২:২৪, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
দুই কারণে মরছে শীতলক্ষ্যা নদী
দূষণের কারণে কুচকুচে কালো হয়ে গেছে নারায়ণগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে বহমান শীতলক্ষ্যা নদী- ফাইল ফটো

তীরঘেঁষে গড়ে তোলা বিভিন্ন কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য ও শহরের বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে প্রাচ্যের ড্যান্ডি-খ্যাত শীতলক্ষ্যা নদী। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে পলিথিন ও নৌযানের বর্জ্য। এসব কারণে নদীটি এখন মৃতপ্রায়। শীতলক্ষ্যার এই করুণ অবস্থার জন্য পরিবেশ অধিদফতরকেই দায়ী করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। নারায়ণগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে বহমান এই নদী।

সরেজমিন দেখা গেছে, বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ির অপরিশোধিত বর্জ্য নর্দমা ও খালের মাধ্যমে সরাসরি নদীতে পড়ছে। শহরের ৫-নং নৌঘাট থেকে শুরু করে ১-নং ঘাট, লঞ্চঘাট হয়ে নিতাইগঞ্জ পর্যন্ত নদীর তীরে ময়লা-আবর্জনা পড়ে আছে। সব ধরনের বর্জ্য এখানে ফেলা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন প্রায় ২০ কোটি লিটার শিল্প কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য শীতলক্ষ্যা নদীতে পড়ছে। সেই সঙ্গে রয়েছে হোটেল রেস্তোরাঁ, বাসাবাড়ির পয়োবর্জ্য, গৃহস্থালির বর্জ্যসহ পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য।

Advertisement

কর্মকর্তারা বলেন, পানিতে জীববৈচিত্র্য টিকে থাকার জন্য ন্যূনতম ৪ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম অক্সিজেন থাকা প্রয়োজন। কিন্তু শীতলক্ষ্যার পানিতে মাত্র শূন্য দশমিক ১ মিলিগ্রাম অক্সিজেন রয়েছে। তবে বর্ষাকালে কিছুটা বেড়ে ২ মিলিগ্রাম হয়। ফলে এ নদীতে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী বেঁচে থাকা দায়।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে প্রায় প্রায় তিন হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব শিল্পকারখানার বেশিরভাগ বর্জ্য তরল। নিয়ম অনুযায়ী এসব কারখানায় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) থাকার কথা। কিন্তু অনেক কারখানায় তা নেই। এর মধ্যে ডাইং কারখানাগুলো অন্যতম। আবার যাদের ইটিপি আছে, পরিচালন ব্যয় বেশি হওয়ায় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই তা বন্ধ রাখছে।

স্থানীয়রা বলছেন, নদীতে গোসল এক সময় করতাম, মাছ ধরতাম। এখন আর সে অবস্থা নেই। কলকারখানার বর্জ্যে নদীর পানি নষ্ট হয়ে গেছে। শরীরে পানি লাগলেই চুলকায়, চর্মরোগে আক্রান্ত হতে হয়। মাঝে মাঝে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী মরে ভেসে ওঠে। দূষণের কবল থেকে এখনই শীতলক্ষ্যা নদীকে বাঁচাতে হবে।

শীতলক্ষ্যার তীরে গড়ে ওঠা গার্মেন্টস, ডাইং ও সিমেন্ট কারখানাসহ অন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিশোধন ছাড়াই তরল রাসায়নিক বর্জ্য নদীতে ফেলছে বলে অভিযোগ করেন নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি।

তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান কীভাবে ছাড়পত্র নেয়? কীভাবে তারা পরিচালনা করছে? এখানে অর্থনৈতিক লেনদেন রয়েছে। এর সঙ্গে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরের লোকজন জড়িত বলে মনে করি। তা না হলে দুর্বৃত্তরা এভাবে একটা নদী ধ্বংস করতে পারে না। দূষণ রোধে প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে। পরিবেশ অধিদফতর বিচার -বিবেচনা ছাড়াই ছাড়পত্র দিচ্ছে। এসব বন্ধ করতে হবে। সরকার কঠোর হলে নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নগর পরিকল্পনাবিদ মঈনুল ইসলাম বলেন, সিটি কর্পোরেশনের পয়োবর্জ্য নদীতে পরিশোধনের একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ক্লাস্টার ইটিপি বসানো হবে। এটি বাস্তবায়ন হলে শীতলক্ষ্যা নদীর অবস্থার উন্নতি হবে, দূষণ কমে যাবে।

পরিবেশ অধিদফতর নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শেখ মুজাহীদ গণমাধ্যমকে বলেন, নারায়ণগঞ্জে প্রায় ৫০০ শিল্পপ্রতিষ্ঠান আছে, যারা রাসায়নিক তরল বর্জ্য নির্গমণ করে। এগুলোর মধ্যে ৩৫৭টি প্রতিষ্ঠানে ইটিপি রয়েছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো বর্জ্য পরিশোধন ছাড়াই সরাসরি নর্দমা ও শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলছে। 

তিনি বলেন, নদীদূষণ বন্ধে আমরা কাজ করছি। প্রতি মাসেই অভিযান চালানো হচ্ছে। যেসব কারখানায় ইটিপি নেই সেগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের ইটিপি স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। যারা অপরাধ করছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে কারখানা সিলগালা করা হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!