ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

চাকরির প্রলোভনে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তারা

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:১৬, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
চাকরির প্রলোভনে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তারা
গ্রেফতারকৃত শফিকুল ইসলাম ও আবু তাহের ওরফে ফয়সাল

রাজবাড়ীতে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চাকরি প্রার্থীদের থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে দুই প্রতারককে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা পুলিশ (ডিবি)। 

শনিবার দুপুরে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার জি এম আবুল কালাম আজাদ। 

আসামিরা হলেন, শফিকুল ইসলাম (৩৬) ও আবু তাহের ওরফে ফয়সাল (৪২)। শফিকুলের বাড়ি রাজবাড়ী শহরের ভবানীপুর গ্রামে। তার বাবার নাম তাহের মন্ডল। অপরজন নওগাঁর পোরশা উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের আকিমুদ্দিনের ছেলে। 

পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, রাজবাড়ীতে শামীম নামে একজন পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরির জন্য আবেদন করেন। কয়েকদিন আগে আমরা খবর পাই, শামীম নামে এক চাকরি প্রত্যাশীকে চাকরির দেওয়ার কথা বলে শফিকুল ইসলাম ১৪ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে তারা ঠিক করেন সাত লাখ টাকা দিবেন। কিন্তু শফিকুল ইসলাম তাদের বলেন, এটা জেলা লেবেলে হবে না। হেডকোয়ার্টার ও ঢাকাকেন্দ্রীক তাদের যেতে হবে। এজন্য টাকা ব্যাংকে জমা রেখে তাদের চেকপ্রদান করতে হবে। ভুক্তভোগী সাত লাখ টাকার একটি চেক তাকে দিয়ে দেন। চেক দেওয়ার পরে তারা প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন। তারপর বিষয়টি তারা আমাদের কাছে বলেন। আমরা প্রথমে রাজবাড়ী থেকে শফিকুল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ঢাকা থেকে আবু তাহের নামে আরেকজনকে গ্রেফতার করা হয়। 

তিনি বলেন, মূলত শফিকুল ও আবু তাহেরের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই প্রতারণার কাজগুলো করে থাকেন। তারা বিভিন্ন বাহিনীর দফতরে চাকরি দেওয়ার কথা বলে এসব প্রতারণা করে থাকেন।

ঢাকায় আবু তাহেরের বাসায় অভিযান চালিয়ে চাকরি প্রত্যাশীদের ৫৩টি সিভি, ১৩টি ভুয়া নিয়োগপত্র, চাকরি প্রত্যাশীদের সাতটি ব্যাংক চেক, তিনটি মোবাইল, নয়টি স্বাক্ষরিত নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প, আসামিদের ভুয়া আইডি কার্ড ও ভিজিটিং কার্ড, আসামিদের বিভিন্ন ব্যাংকের পাঁচটি চেক বই, তিনটি ব্যাংক এটিএম কার্ড সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন চাকরির বিজ্ঞাপন ও একটি ডায়েরি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া আসামিরা বিভিন্ন চাকরি প্রত্যাশীদের নিকট হতে ৩০ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন ডকুমেন্ট, চ্যাটিং অডিও ক্লিপ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রেস বিফ্রিংয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মুকিত সরকার, সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইফতেখারুজ্জামান, জেলা বিশেষ শাখার ওসি বিপ্লব কুমার রায় চৌধুরী, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মনিরুজ্জামান খান প্রমুখ। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!