ফলে ভালোবাসার উৎসবে মুখর যুবক-বৃদ্ধা ও তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সী মানুষ। বিশেষ এই দিনটিতে প্রেমিক-প্রেমিকার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভালোবাসার জয়োগানে সুর মিলাচ্ছে স্বামী-স্ত্রী, মা-বাবা, ভাই-বোন বন্ধু-বান্ধুবীসহ সকলে। তাই প্রিয় মানুষটিকে একগুচ্ছ ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার জানান দিতে ফুলের দোকানগুলোতে ভিড় করছেন নানান বয়সীরা।
বুধবার সকাল থেকে পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহর ঘুরে দেখা যায় বাহারি ফুলের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। আর দোকানগুলোতে ভিড়ের মধ্যে অনেকটা লজ্জারাঙা হয়ে ফুল সংগ্রহ করতে দেখা গেছে তরুণ-তরুণীদের। তবে ভালোবাসার পরশ নিয়ে হাসি মুখে প্রিয়তমা স্ত্রীর জন্য ফুলের তোরা কিনছেন প্রেমিক পুরুষরা।
.png)
দোকানিরা বলছেন, মঙ্গলবার বিকেল থেকেই প্রেম বিনিময়ের প্রধান অনুষঙ্গ (ফুল) বিক্রির ধুম পড়েছে। পৌর-শহরের মহিলা কলেজ সংলগ্ন মাইনুল ইসলামের দোকানে কথা হয় কলেজ শিক্ষার্থী অলির সঙ্গে। তিনি জানান, দুই বছরের রিলিশনে রয়েছেন তিনি তার প্রিয়তমার সঙ্গে। আজ ভালোবাসা দিবসে একটি লাল গোলাপের তোড়া নিয়েছেন তার প্রিয়তমাকে উপহার দিবেন বলে।
মনহরি পট্টির গালিবের দোকানে ফুল নিতে আসা মাসুদ জানান, দীর্ঘ ১৯ বছরের সংসার জীবন তাদের। আজ বিশেষ দিনে জীবন সাথীকে ফুলেল শুভেচ্ছায় জানাতে চান আজও আগেরই মতো করে শুধু তাকেই মনের গহিনে রেখেছেন তিনি।

ফুল দোকানি মাইনুল জানান, তার দোকানে প্রায় দেড় লাখ টাকার ফুল সংগ্রহ করেছেন। তবে তার দোকানে লিলিয়াম, টিউলিপ, গ্যালোডিলাক্স, জারবোরা, ঝিপসি, চন্দ্রমল্লিকা, বেলজিয়াম স্টার, গাঁদাসহ ৬ জাতের গোলাপ বিক্রি হচ্ছে বেশি। এদিন সকাল পর্যন্ত ৭০ হাজার টাকার ফুল বিক্রি হয়েছে তার। আবার অনেকেই ফোন দিয়ে গোপনে অর্ডার করছেন ফুল নেয়ার জন্য।
এদিকে দিনটি উদযাপনে কুয়াকাটার সৈকতজুড়ে ভিড় জমিয়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা। মনের মানুষের হাত ধরে সৈকতের বালিয়ারীতে ঘুরে ঘুরে বলছেন মনের যত কথা। কেউ কেউ এসেছেন পরিবার পরিজন নিয়ে। শুধু তরুণরাই নয়, ফাগুনের ছোঁয়ায় উচ্ছ্বাসে মেতেছেন বয়স্করাসহ শিশুরাও। সকলেই বলছেন, হৃদয় দিয়ে ভালোবাসার মানুষকে আপন করে কাছে পাওয়ার আকুলতা বাড়িয়ে দিয়েছে আজকের এই বিশ্ব ভালোবাসা দিবস।