ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

রাজশাহীতে দুই শিশুর মৃত্যু: তথ্য-নমুনা নিয়ে ঢাকায় ফিরলো বিশেষজ্ঞ দল

রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:১২, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
রাজশাহীতে দুই শিশুর মৃত্যু: তথ্য-নমুনা নিয়ে ঢাকায় ফিরলো বিশেষজ্ঞ দল
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল- ফাইল ফটো

রাজশাহীতে কুড়িয়ে আনা বরই না ধুয়েই খাওয়ার পর ‘অজানা ভাইরাসে’ আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল রোববার ঢাকা থেকে রাজশাহীতে আসে। তথ্য ও নমুনা সংগ্রহ করে মঙ্গলবার ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয় দলটি।

ঢাকায় ফেরার আগে এদিন সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল পরিচালকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই প্রতিনিধি দল। গণমাধ্যমের সঙ্গে এ দলের সদস্যরা কথা বলেননি।

তবে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএফএম শামীম আহাম্মদ বলেন, ঐ দুই শিশুর কী কারণে মৃত্যু হয়েছে তা অনুসন্ধানেই আইইডিসিআর এর টিম রাজশাহীতে এসেছিল। তারা কোনো ফলাফল নিয়ে আমাদের সঙ্গে কথা বলেননি। তবে রাজশাহীতে তারা কোথায় কী করেছেন তা শেয়ার করেছেন। তারা মৃত দুই শিশুসহ তার বাবা-মায়ের সব রেকর্ড হাসপাতাল থেকে নিয়েছেন। শিশুদের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সন্দেহজনক নমুনাও তারা সংগ্রহ করেছেন। আমরা তাদের সহযোগিতা করেছি।

Advertisement

এর আগে, সোমবার এই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হাসপাতালের আইসোলেশনে থাকা শিশুদের বাবা-মায়ের সঙ্গে প্রথম কথা বলেন। সে সময় তাদের শারীরিক কোনো জটিলতা না থাকায় বাসায় আইসোলেশনে থাকার সুপারিশ করেন। তাদের সুপারিশেই হাসপাতাল থেকে বাসায় চলে যান শিশুদের মা-বাবা। বর্তমানে তারা বাসায় আইসোলেশনে আছেন। তাদের শারীরিক তেমন কোনো জটিলতা নেই। জটিলতা দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকদের জানানোর জন্যও পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ দল।

ঐ প্রতিনিধি দলে ছিলেন- আইইডিসিআ’র মেডিকেল অফিসার ডা. ক্য থোয়াই প্রু প্রিন্স ও ডা. মো. মাইনুল হাসান। এছাড়া বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহের জন্য আসেন সিনিয়র মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ চত্বরে থাকা গাছের বরই কুড়িয়ে এনে দুই শিশুকে খেতে দিয়েছিলেন তাদের গৃহকর্মী। না ধুয়েই সেই বরই খেয়েছিল দুই শিশু। এরপর তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরের দিন বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ মনজুর রহমান-পলি খাতুন দম্পতির ছোট মেয়ে মারিশার শরীরে ভীষণ জ্বর আসে। এ সময় তারা বার বার পানি পান করছিল। দুপুর থেকে বমি শুরু হয়। তখন মেয়েকে নিয়ে তারা একটি মাইক্রোবাসে করে রাজশাহীর সিএমএইচ হাসপাতালে আসেন। মাইক্রোবাসে মারিশা মায়ের বুকের দুধ পান করে। তবে শহরের অদূরে কাটাখালী এলাকায় মায়ের বুকেই মৃত্যু হয় মারিশার।

আর ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে মাশিয়ার শরীরেও জ্বর আসে। একই সঙ্গে শুরু হয় বমি। অবস্থা বেগতিক দেখে দুর্গাপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখান থেকে পরে তাকে রাজশাহী সিএমএইচে নেয়া হয়। এরপর রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাশিয়ার পুরো শরীরেও ছোপ ছোপ কালশিটে দাগ উঠতে শুরু করে। পরে চিকিৎসকরা মাশিয়াকে রামেক হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। রাত ৯টার দিকে তাকে রামেক হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন চিকিৎসকরা। আইসিইউতে পর্যবেক্ষণ থাকা মাশিয়াও পরের দিন শনিবার বিকেলে মারা যায়।

একইদিন বিকেলে নিকট স্বজনদের মাধ্যমে মাশিয়ার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। সন্ধ্যার পরে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় গ্রামের বাড়িতে মরদেহ দাফন করা হয়। সেখানে গত বুধবার রাতে মারিশাকেও দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুদের বাবা-মাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!