এ সংঘর্ষে আহত হয়েছেন দুই গ্রুপের অন্তত চারজন। তারা হলেন- জিনের বাদশাখ্যাত হাসান মীরের স্ত্রী নূর নাহার, নূর ইসলামের স্ত্রী রুজিনা, দলিল উদ্দিনের ছেলে হোসেন, নাগরের স্ত্রী মাহমুদা। এদের মধ্যে নূর নাহার ও রুজিনার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
তবে, এ ঘটনায় বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ চার জিনের বাদশাকে আটক করেছেন। তারা হলেন- কাচিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নসু হাওলাদারের ছেলে আলমগীর হাওলাদার, আলমগীর হাওলাদারের ছেলে শামীম হাওলাদার, রিপন মীর ও নয়ন মাল।
.png)
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় আলমগীর হাওলাদার ও নূর ইসলাম মীর গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। তারা এলাকায় জিনের বাদশা নামেই বেশ পরিচিত। এরা নিজেদের জিন পরিচয় দিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন। তাদের ছত্রছায়ায় রয়েছে সাধারণ পর্যায়ের জিন (যারা সদ্য এ পেশায় এসেছেন)। ঐ সাধারণ পর্যায়ের জিনদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতো এই দুই পক্ষ। তবে ঐ চাঁদা আদায় নিয়েই দুই গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শুক্রবারের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের মাধ্যমে বিরোধের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
স্থানীয়রা আরো জানান, বৃহস্পতিবার রাতে জিনের বাদশা আলমগীর হাওলাদার ও তার বাহিনী অপর আরেক জিনের বাদশা নূরুল ইসলাম মীর গংদের বাড়িতে গিয়ে চাঁদার টাকার জন্য হুমকি দিয়ে আসে। তবে আলমগীর বাহিনীর ঐ হুমকিকে পাত্তা দেয়নি নূরুল ইসলাম মীরের জিন বাহিনী। এতেই বাধে বিপত্তি। পরে শুক্রবার যা রূপ নেয় সংঘর্ষে। এ ঘটনায় দুই গ্রুপের লোকজন আহত হলেও কোনো পক্ষই বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে বোরহারউদ্দিন থানার ওসি শাহিন ফকির বলেন, কাচিয়া ইউনিয়নে সংঘবদ্ধ একটি প্রতারক চক্র রয়েছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার চেষ্টা করছি। শুক্রবার দুই গ্রুপের ঘটনায় আমরা চারজনকে আটক করেছি। এ ঘটনায় অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। আমরা সংঘর্ষের ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছি।