ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

স্বামীকে জিম্মি করে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে গণধর্ষণ, ৪ দিনেও গ্রেফতার নেই

পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৩৭, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
স্বামীকে জিম্মি করে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে গণধর্ষণ, ৪ দিনেও গ্রেফতার নেই
আমিনপুর থানা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

স্বামীকে বেঁধে রেখে তার চোখের সামনে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ৬ যুবক মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। এতে ওই নারীর গর্ভস্থ শিশুটি মারা গেছে। 

পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানার সাগরকান্দি ইউপির চর কেষ্টপুরে শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার দু ’দিন পর রোববার ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার ৪ দিন পর বুধবার বিষয়টি জানাজানি হয়। 

আমিনপুর থানার ওসি হারুনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

Advertisement

অভিযুক্তরা হলেন বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানার চর কেষ্টপুর গ্রামের মাজেদ প্রামাণিকের ছেলে সেলিম প্রামাণিক, একই এলাকার মো. শরীফ, আনিছ সরদারের ছেলে রাজীব সরদার, তালেব মণ্ডলের ছেলে রুহুল মণ্ডল, শফিক সরদারের ছেলে লালন সরদার ও শামসুলের ছেলে সিরাজুল। 

জানা গেছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে চর কেষ্টপুরের কাদেরিয়া তরিকার ওয়াজ মাহফিল চলছিল। ধর্ষণের শিকার নারীর স্বামী দুুপুর থেকেই মাহফিলে কাজ করছিলেন। রাতে ওই নারী মাফফিলে ওয়াজ শুনতে যান। সেখানে ওয়াজ শুনে রাত ১২টার দিকে স্বামী-স্ত্রী ফিরছিলেন। এ সময় তার গতিরোধ করেন অভিযুক্ত ৬ যুবক। এ সময় তারা স্বামীকে অস্ত্রের মুখে বেঁধে ফেলেন। তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে পাশের একটি ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে অভিযুক্তরা পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। ওই নারীর স্বামী এক পর্যায়ে ছুটে গিয়ে জলসায় উপস্থিত থাকা লোকজনকে ঘটনা জানান। এ সময় স্থানীয়রা দলবদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে আটক করেন। টের পেয়ে অন্যরা পালিয়ে যান। ধর্ষণের শিকার নারীকে পরদিন পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

স্থানীয়রা বলেন, ওয়াজ মাহফিল চলা অবস্থায় রাত ১টার দিকে গৃহবধূর স্বামী ছুটে এসে ঘটনা বলেন। সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয়রা গিয়ে একজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এ সময় গৃহবধূকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসক এর কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। 

ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ বলেন, ‘আমাদের যাওয়ার পথে তারা মাঠের মধ্যে পথ আটকায়। আমাদের বলে তোরা স্বামী-স্ত্রী কিনা। আমরা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী দাবি করলেও তারা কর্ণপাত করেননি। ফোনে আমাদের পরিবারের আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে কথা বললেও তারা শোনেনি। এক পর্যায়ে আমার স্বামীকে তারা ব্যাপক মারধর করে বেঁধে রাখেন। আমাকে মাঠের মধ্যে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে গিয়ে তারা পাশবিক নির্যাতন চালান। এ সময় আমার স্বামী ছুটে গিয়ে মাফফিলের লোকজন ডেকে আনলে একজনকে আটক করা হয় এবং বাকিরা পালিয়ে যান। 

ভুক্তভোগীর নারীর স্বামী বলেন, তার স্ত্রী তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এ ঘটনার পর গর্ভের সন্তান মারা গেছে। যারা ধর্ষণ করেছে তাদের পক্ষ থেকে মীমাংসা করার জন্য নানা হুমকি ও চাপ দেওয়া হচ্ছে। ধর্ষণ এবং আমাদের সন্তান হত্যার বিচার চাই। 

সাগরকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন চৌধুরী। তিনি বলেন, অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরছেন কিন্তু পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে পারছে না। এটা নিয়ে প্রশাসনের তেমন তোড়জোড় আছে বলে মনে হচ্ছে না। 

আমিনপুর থানার ওসি হারুনুর রশিদ বলেন, আসামিদের আজ পর্যন্ত গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত আছে। বাদীকে হুমকি-ধমকির বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: পাবনা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!