ঢাকা,  রোববার   ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]
বেইলি রোডে আগুন

‘বেতন তুলে বাড়ি আসবে বলেছিল সাগর, এলো লাশ হয়ে’

পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২২:০৯, ১ মার্চ ২০২৪
‘বেতন তুলে বাড়ি আসবে বলেছিল সাগর, এলো লাশ হয়ে’
ছবি: সংগৃহীত

‘দুইদিন আগে আমার ছেলের সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়েছে। বেতন তুলে ১০ তারিখে বাড়ি আসবে বলেছিল সাগর। আমি বলেছিলাম, টাকার দরকার নাই, তুমি বাড়ি চলে আসো। কিন্তু তার আগেই আমার ছেলেটা পৃথিবী থেকে চলে গেল।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন, ঢাকার বেইলি রোডের বহুতল ভবনের আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া সাগর হোসেনের মা সাবিনা খাতুন।

নিহত সাগর হোসেন পাবনার ফরিদপুর উপজেলার হাদল ইউনিয়নের ধানুয়াঘাটা পূর্বপাড়া গ্রামের হাসান আলী ও সাবিনা খাতুন দম্পতির ছেলে। বিদেশে যাওয়ার জন্য চাকরি করে টাকা জমাচ্ছিলেন তিনি। এর আগে, অন্য জায়গায় সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করতেন সাগর।

জানা গেছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বেইলি রোডের বহুতল ভবনে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরিতে যোগদান করেন সাগর হোসেন। তিনি ঐ ভবনের ক্লথিং ব্যান্ড ইপিলিয়ন শোরুমে কর্মরত ছিলেন। সাগর মাকে বলেছিলেন, বেতন পেয়ে ১০ তারিখে বাড়ি আসবেন। তবে জীবিত আর বাড়ি যাওয়া হয়নি। লাশ হয়ে যেতে হয়েছে বাড়িতে।

স্থানীয়রা জানান, সাগর হোসেন এইচএসসি পাস। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। তার বাবা পেশায় দিনমজুর, মা গৃহিণী। বিদেশে গিয়ে ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে চেয়েছিলেন সাগর। এজন্য ঢাকায় সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি নিয়ে টাকা জমাতে চেয়েছিলেন তিনি। বেতন থেকে পরিবারের জন্যও কিছু টাকা পাঠাতেন মাঝেমধ্যে।

সাগরের স্বজনরা জানান, গারদা শিলড সিকিউরিটি কোম্পানির মাধ্যমে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে ২৭ ফেব্রুয়ারি ওই ভবনের ক্লথিং ব্যান্ড ইপিলিয়ন শোরুমে যোগদান করেছিলেন সাগর। সেখানে কর্মরত অবস্থায় আটকা পড়ে দগ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।

নিহত সাগরের বাবা হাসান আলী বলেন, ‘দিনমজুরি করে সংসার চালাই। ছেলেকে লেখাপড়া করানো খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল। বিদেশ যাওয়ার ইচ্ছা ছিল তার। বাড়ি থেকে টাকা জোগাতে পারিনি বলে সে ঢাকায় গিয়ে কিছু একটা করে টাকা জমানের কথা বলে। চার মাস আগে সে ঢাকায় গিয়ে সিকিউরিটি কোম্পানিতে চাকরি শুরু করে। মাঝে মধ্যেই টাকা পাঠাতো। ঐ ভবনে সে মাত্র তিনদিন আগে চাকরি নিয়েছিল। শুক্রবার শুনতে পাই আমার ছেলে পুড়ে মারা গেছে।’

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম হোসেন বলেন, এটি একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। তাদের পরিবারটি খুবই অসহায়। আমি এবং উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে অসহায় পরিবারটির পাশে থাকবো।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!