এছাড়াও কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নরসিংদী, হবিগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, ঢাকা, সিলেট, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা, মৌলভীবাজার, বান্দরবান ও উখিয়া-টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দালালদের মাধ্যমে চেয়ারম্যান, মেম্বার ও কাউন্সিলরদের মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম নিবন্ধন সংগ্রহ করে চালিয়ে যাচ্ছে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড। এতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে ঐ চক্রটি। এছাড়াও দেশের কাগজপত্র সংগ্রহ করে জায়গা-জমি ক্রয়-বিক্রয়, নামে-বেনামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, গাড়ি-বাড়ি, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে এসব অঘোষিত রোহিঙ্গারা।
সম্প্রতি কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলী এলাকায় সন্ধান পাওয়া গেছে মোহাম্মদ ইয়াহিয়া নামে এমনই এক রোহিঙ্গার। মোহাম্মদ ইয়াহিয়া (পিতা মৃত ইউসুফ) টাকার বিনিময়ে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেন। পরে কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলীতে নিরাপদে বসে জায়গা-জমি, মানবপাচার, খুন, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে ইয়াহিয়ার আত্মীয়-স্বজনের (যারা উখিয়ার লাম্বাশিয়া ক্যাম্পে রয়েছেন) সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
.png)
তার এনআইডি নম্বর: ২২২২৪০৩৩৮৬০৯১ এবং ইসলামী ব্যাংক কক্সবাজার শাখার হিসাব নম্বর: ৫২৬৭২। এর আগে, কক্সবাজারের পাহাড়তলীয় শহর কেন্দ্রীক যেসব অপরাধ কর্মকাণ্ড খুন, চুরি, ডাকাতি, মানবপাচারের মতো ঘটনা সংগঠিত হয়েছে এসবের নেপথ্যে ভূমিকায় ছিলেন সেই আলোচিত রোহিঙ্গা ইয়াহিয়া। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরপাকড় এড়াতে কৌশলে শহরের পাহাড়তলীতে অবস্থান নিয়েছেন ইয়াহিয়া।
স্থানীয়রা জানান, কক্সাবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় রোহিঙ্গারা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে জনপ্রতিনিধি, মেয়র-কাউন্সিলর ও মেম্বার-চেয়ারম্যানদের হাতে নিয়ে এসব অপরাধ কর্মকাণ্ড ঘটানোর কাজে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে। এর আগে, সরকার যখন মানবপাচারের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে সেসময় ওসি প্রদীপের কথিত সেই সিরিজ ক্রসফায়ার আতঙ্কে আত্মগোপনে চলে যান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শরণার্থী এই ইয়াহিয়া।
এছাড়াও মানবপাচার ও ইয়াবা সংক্রান্ত ঘটনার ভাগবাটোয়ায় বনিবনা না হওয়ায় শহরের পাহাড়তলীতে অসংখ্য খুনের ঘটনা ঘটান ইয়াহিয়া। যদিও দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়াতে ইয়াহিয়া শহরের পাহাড়তলীতে অবস্থান নিয়ে আত্মগোপনে আছেন। দীর্ঘদিন ধরে শহরে বসবাস করার সুবাদে স্থানীয়দের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে কালো টাকার বিনিময়ে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে এনআইডি ও জন্ম নিবন্ধনসহ সরকারি দফতরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট সংগ্রহ করতে একটি স্থানীয় অপরাধী চক্রের সিন্ডিকেট রয়েছে ইয়াহিয়ার হাতে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শহরের পাহাড়তলীতে যেসব রোহিঙ্গারা এনআইডি সংগ্রহ করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন তাদেরও বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার ব্যাপারে কাজ করছেন এই ইয়াহিয়া।
ক্যাম্প-৯ এর আবদুর শুককুর নামের এক রোহিঙ্গা বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ প্রশাসন যদি অপরাধী ইয়াহিয়ার ব্যাপারে তদন্ত ও অনুসন্ধান করে তবে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে। কক্সবাজারে বসে মানবপাচার, ইয়াবা চোরাচালান ও জাল টাকার মতো অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন ইয়াহিয়া।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোহিঙ্গা জানান, এ অপরাধীর ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্ত, পর্যবেক্ষণ, অনুসন্ধান এবং পুলিশি অ্যাকশন জোরালোভাবে চালালে ইয়াহিয়ার আসল মুখোশ উন্মোচিত হবে।
ভুক্তভোগী টেকনাফ মুছনি এলাকার এক নারী ইয়াহিয়ার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারের নিকট আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।