ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সিগারেট খাওয়া দ্বন্দ্বে হত্যার পর গুম, ফুফাতো ভাইসহ গ্রেফতার ২

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৩৩, ৫ মার্চ ২০২৪
সিগারেট খাওয়া দ্বন্দ্বে হত্যার পর গুম, ফুফাতো ভাইসহ গ্রেফতার ২
ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার গাবতলীতে সিগারেট খাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে মুক্তিপণের দাবিতে মামাতো ভাইকে হত্যা করেন ফুফাতো ভাই ও তার সহযোগী। এ হত্যাকাণ্ডে নিহতের ফুফাতো ভাইসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে, সোমবার রাতে মুরগির ঘরে মাটি খুঁড়ে ৯ দিন ধরে নিখোঁজ স্কুলছাত্রের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নিহতের ফুফাতো ভাই গাবতলী উপজেলার ঈশ্বরপুর পূর্বপাড়ার রফিকুল ইসলামের ছেলে এনামুল হক (২০), সারিয়াকান্দি উপজেলার ফুলবাড়ি পশ্চিমপাড়ার আব্দুল জলিল মন্ডলের ছেলে ফিরোজ ইসলাম (১৯)।

মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস বিফ্রিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রশিদ।

Advertisement

নিহত স্কুলছাত্রের নাম নাসিরুল ইসলাম নাসিম। সে সারিয়াকান্দি উপজেলার ফুলবাড়ি পশ্চিমপাড়ার মো. ওয়াজেল মন্ডলের ছেলে ও স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান,  নিহত স্কুলছাত্র নাসিম ও হত্যাকারীরা আত্মীয় এবং একইসঙ্গে ঘুরাফেরা করতো বন্ধুর মতো। একদিন ফুফাতো ভাই এনামুলের সামনে মামাতো ভাই নাসিম সিগারেট খায়। এ সময় এনামুল নাসিমকে সিগারেট খেতে নিষেধ করে। এ নিয়ে এনামুল ও নাসিমের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। এরপর নাসিমকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে ফুফাতো ভাই এনামুল। সেই পরিকল্পনা মতে ২৫ ফেব্রুয়ারিতে বেড়ানোর নাম করে নাসিমকে অপহরণ করে এনামুলের বাড়িতে এনে হাত, পা বেধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

এরপর নিহতের মরদেহ বস্তাবন্দি করে এনামুলদের মুরগির ঘরের মধ্যে মাটিতে পুঁতে রাখে। এরপর এনামুল নিহত নাসিমের মোবাইল থেকে তার বাবাকে ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে ম্যাসেজ দেয়। ঐ ম্যাসেজের সূত্র ধরেই পুলিশ এনামুলকে আটক করে।

এনামুলের দেওয়া তথ্যমতে, সোমবার (৪ মার্চ) রাত ১০টার দিকে গাবতলী উপজেলার ঈশ্বরপুর পূর্বপাড়ায় বসতবাড়ির মুরগির ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এনামুলসহ দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,  গত ২৫ ফেব্রুয়ারি শবে বরাতের রাত থেকে নিখোঁজ ছিল স্কুলছাত্র নাসিম। এ ঘটনায় থানায় জিডি হলে তার সন্ধানে মাঠে নামে পুলিশ। সোমবার একপর্যায়ে নাসিমের দুঃসম্পর্কের এক আত্মীয় রফিকুলের ছেলেকে সন্দেহজনকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রফিকুলের বাড়ির মুরগি রাখার ঘরে মাটির নিচে পুঁতে রাখা নাসিমের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!