ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

রুমে নিয়ে ছাত্রকে বলাৎকার করেন মাদরাসার শিক্ষক

নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৫১, ১১ মার্চ ২০২৪
রুমে নিয়ে ছাত্রকে বলাৎকার করেন মাদরাসার শিক্ষক
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নোয়াখালী শহরের মাইজদীর শিল্পকলা একাডেমি এলাকার দারুল আজহার মডেল মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রকে (১০) বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই মাদরাসার শিক্ষক মো. ইলিয়াছের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। 

অভিযুক্ত শিক্ষক মো. ইলিয়াছ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর এলাহী ইউনিয়নের গাংচিল গ্রামের হাজী মুরশিদের রহমানের ছেলে।

সোমবার বিকেলে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুধারাম মডেল থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি। রোবাবার দুপুরে এ ঘটনায় নির্যাতিত শিশুর মা বাদী হয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সুধারাম মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এর আগে, গত ৬ মার্চ বিকেলে মাদরাসার ওই শিক্ষকের রুমে বলাৎকারের ঘটনা ঘটে।

Advertisement

ভুক্তভোগী শিশুর স্বজনরা অভিযোগে জানান, তার দুই ছেলের মধ্যে ১০ বছরের একটি ছেলে দারুল আজহার মডেল মাদরাসার ছাত্র। মাদরাসার হুজুর মাওলানা আবদুর জলিলের ইউনিটে থেকে পড়ালেখা করছে ভিকটিম। গত এক মাস পূর্ব থেকে ওই মাদরাসার শিক্ষক মো. ইলিয়াছ ভিকটিমকে বিভিন্ন সময় নিজ রুমে ডেকে নিয়ে একাধিকবার বলাৎকার করেন এবং বিষয়টি কাউকে জানালে মারধরের হুমকি দেন।

সর্বশেষ গত ৬ মার্চ বিকেলে পুনরায় শিক্ষক মো. ইলিয়াছ ভিকটিমকে তার রুমে ডেকে নিয়ে বলাৎকার করেন। এতে শিশুটির পায়ুপথে রক্তক্ষরণ দেখা দিলে ব্যথার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে বিষয়টি মুঠোফোনে তার মাকে অবহিত করে। পরে ভিকটিমের মা মাদরাসায় গিয়ে ঘটনার বিচার চাইলে মাদরাসা পরিচালনা কমিটি কোনো বিচার না করে বরং অভিযুক্ত শিক্ষককে বাঁচাতে তার কাছ থেকে একটি মুচলেকা নিয়ে তাকে মাদরাসা ছেড়ে যেতে সহযোগিতা করেন। মুচলেকায় ওই শিক্ষক ভিকটিমসহ আরো একাধিক ছাত্রের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করেন।

দারুল আজহার মডেল মাদরাসার পরিচালক আবু সালমান বলেন, ঘটনাটি জানার পর আমরা ওই শিক্ষকের পরিবারকে ডেকে তাদের উপস্থিতিতে বিষয়টি জানার চেষ্টা করি। পরবর্তীতে তিনি বলাৎকার ছাড়া ওই ছাত্রের সঙ্গে অন্যান্য খারাপ আচরণের কথা স্বীকার করেন এবং মুচলেকায় উল্লেখ করে স্বাক্ষর করেন। তার বিরুদ্ধে যেকোনো আইনি প্রক্রিয়ায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করবেন বলেও জানান এই পরিচালক।

সুধারাম মডেল থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি বলেন, মামলার বিষয়টি জানতে পেরে আসামি গা-ঢাকা দিয়েছেন। তবে তাকে গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!