মঙ্গলবার সকালে পশ্চিম ইলিশা ৪নং ওয়ার্ডে পশ্চিম চরপাতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে অসুস্থ শিক্ষার্থীরা ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পশ্চিম চরপাতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিহাদ বলেন, গণিত স্যার আমাদের ক্লাস নিচ্ছিলেন। হঠাৎ করে দেখলাম আমার মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যাচ্ছি। এমনভাবে মাথা ব্যথা উঠছে মনে হয়েছে চুলগুলো উঠিয়ে ফেলি। আমার এমন অবস্থা দেখে স্যাররা আমাকে লাইব্রেরিতে নিয়ে যায়। পরে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। জ্ঞান ফিরে দেখি আমি হাসপাতালে।
.png)
সিয়াম নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমার সঙ্গে একটা ছাত্র হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গেছে। তাকে ধরতে গিয়ে একে একে আমরা ৫০/৩০ জনের মত অসুস্থ হয়ে পড়েছি।
ক্লাস শিক্ষক আবু ছাঈদ বলেন, আমি ক্লাস নিচ্ছি এমন সময় জিহাদ অসুস্থ হলে তাকে অন্যদের ধরতে বলি। এর কিছুক্ষণ পরেই দেখি যেই ধরে সেই একটা চিৎকার দিয়ে ঘুরে পড়ে যায়। আমারও মাথা ঘুরেছে এবং চোখ দিয়ে হঠাৎ পানি পড়া শুরু করেছে।
আবু কালাম নামের এক অভিভাবক বলেন, স্কুল থেকে এক স্যার বাড়িতে ফোন দিয়ে বলেছে আমার ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমি খবর পেয়ে স্কুলে গিয়ে দেখি কেউ মাথা থাপ্পরাচ্ছে আর কেউ অজ্ঞান অবস্থায় আছে। যে ধরে সেই অসুস্থ হয়ে যায়। এখন এটা কী রোগ সেটা তো জানি না।
দক্ষিণ চরপাতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, গণিত ক্লাসে হঠাৎ এক ছাত্র অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমরা বিষয়টি স্বাভাবিক মনে করে তার বাবা-মাকে খবর দিয়েছে এবং ওই ছাত্রকে প্রাথমিক সেবা দিচ্ছি এর মধ্যেই দেখি যারাই এ ছাত্রকে ধরে সেই একটা চিৎকার দিয়ে মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যায়। পরবর্তীতে ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে তাদের হাসপাতালে নিয়ে এসেছি।
প্রধান শিক্ষক আরো জানান, স্কুল থেকে বাসায় গিয়েও অনেক অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
ভোলা সদর হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার তায়েবুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ৩১ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। হঠাৎ ছাত্র-ছাত্রীরা মাস্ক সাইকোজেনিক ইলন্সে নামক রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে আতঙ্কের কিছু নেই, তারা শিগগিরই সুস্থ হয়ে যাবে। আমরা সবাইকে চিকিৎসা দিচ্ছি এবং কাউন্সিলিং করছি। আশা করি দ্রুতই তারা সুস্থ হয়ে উঠবে।