ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

শহরের বিষফোঁড়া অস্থায়ী লোহার ব্রিজ

হারুন আনসারী, ফরিদপুর
প্রকাশিত: ১০:৪৪, ৩১ মার্চ ২০২৪
শহরের বিষফোঁড়া অস্থায়ী লোহার ব্রিজ
কুমার নদের ওপর লোহার তৈরি অস্থায়ী বেইলি ব্রিজ

ফরিদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে কুমার নদের ওপর লোহার তৈরি অস্থায়ী বেইলি ব্রিজটি এখন শহরবাসীর গলায় স্থায়ীভাবে গেড়ে বসেছে। এতে এখন মুক্তভাবে নিঃশ্বাস নেয়াই দায়। লোহার তৈরি বেইলি ব্রিজটিতে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করে না। এই সুযোগে ভাসমান হকার, ভিক্ষুক আর রাতের বেলায় খদ্দেরের অপেক্ষায় থাকা বারবনিতার ভিড় লেগে থাকে। এতে হেঁটে সরু এ ব্রিজ দিয়ে চলাচল করাই কষ্টকর। যানজট নিরসনে এই লোহার তৈরি বেইলি ব্রিজটি অপসারণ করে সেখানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের জোর দাবি জানান এলাকাবাসী। 

সরেজমিন দেখা গেছে, শহরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড় থেকে টেপাখোলা লেকপাড় পর্যন্ত সোজাসুজিভাবে প্রায় তিন কিলোমিটার বিস্তৃত মুজিব শহরের ফরিদপুরের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। দেশের অন্য কোথাও এমন সোজাসুজি সড়ক দেখা যায় না। আর এই তিন কিলোমিটার সড়কের মাঝামাঝিতে কুমার নদের ওপর বর্তমানের এই বেইলি ব্রিজ। তবে আগে এটি বেইলি ব্রিজ ছিল না। শহরবাসীর নিত্যদিনের যাতায়াতে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত এই ব্রিজটি ১৯৩৫ সালে নির্মিত। তৎকালীন জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান আলিমুজ্জামান চৌধুরী শহরের বুকে কুমার নদের ওপর সর্বপ্রথম এই ব্রিজটি নির্মাণ করেন। মুজিব সড়কের কুমার নদের অংশে স্থাপিত বেইলি ব্রিজের এক প্রান্তে ব্যস্ততম হাজি শরিয়তুল্লাহ বাজার এবং অন্য প্রান্তে তিতুমীর বাজার ও নিউমার্কেট।

কুমার নদের ওপর লোহার তৈরি অস্থায়ী বেইলি ব্রিজ

Advertisement

লোহার পিলারের ওপরে পাথরের ঢালাইয়ের ব্রিজটি ১৯৮৮ সালের বন্যায় ধসে যায়। এরপর সেখানে অস্থায়ী ভিত্তিতে এই বেইলি ব্রিজ তৈরি করা হয় জরুরি চলাচল অব্যাহত রাখতে।  ২০১১ সালের অক্টোবরে রাতের আঁধারে একটি ট্রাক এই বেইলি ব্রিজের ওপরে উঠে গেলে ব্রিজটি আবারো ধ্বসে যায়। এরপর ফরিদপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগ ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে লোহালক্কর দিয়ে ৯১ মিটার দৈর্ঘ্য আলিমুজ্জামান বেইলি ব্রিজটি নির্মাণ করে। এত টাকা ব্যয়ে নির্মিত হলেও লোহার ব্রিজটি দিয়ে কোনো যান চলাচল করতে পারে না। 

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার মাহফুজুল আলম মিলন বলেন, বেইলি ব্রিজ সাধারণত টেম্পোরারি কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এই বেইলি ব্রিজ এখন আমাদের কপালের সঙ্গে এমনভাবে সিল দিয়ে দিছে যে, এটিই এখন আমাদের ভাগ্যের সঙ্গে লেগে গেছে। এই বেইলি ব্রিজের কারণে আমাদের শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা এখন। শহরে মুক্তভাবে নিঃশ্বাস নেয়াই কষ্টকর।

তিনি আরো বলেন, ফরিদপুর তো একটি পুরাতন জেলা। এখানে এমন জোড়াতালির ব্রিজ থাকা উচিত না। এই বেইলি ব্রিজ, পূর্ব খাবাসপুর-রথখোলা ব্রিজ, এই সবই জোড়াতালির ব্রিজ। 

কুমার নদের ওপর লোহার তৈরি অস্থায়ী বেইলি ব্রিজফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, শহরের প্রাণকেন্দ্রে ব্রিজটি সংকীর্ণ হওয়ায় নানা সমস্যা পোহাতে হয় শহরবাসীকে। যানবাহন নিয়ে বাইপাস হয়ে বড় ব্রিজ দিয়ে সবাইকে চলাচল করতে হয়। এতে রাতে অনেককে ছিনতাইকারীর কবলেও পড়তে হয়। সোজা সড়ক ব্যবহার করতে না পারায় যানজটেরও সৃষ্টি হয়। 

তিনি বলেন, ফরিদপুরের শহরের বিস্তৃতি এই সোজাসুজি লস্বা মুজিব সড়কের দুই পাশ জুড়ে। কিন্তু ব্রিজটি দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় এই সড়কের পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এখন যেহেতু শহরের পরিধি, যানবাহন ও জনসংখ্যা বেড়েছে তাই ব্রিজটি প্রশস্ত করে পুননির্মাণ এখন সময়ের দাবি।

এদিকে শহরের যাবতীয় বর্জ্য-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে ব্রিজের দুই পাড়ে। অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে দখল করে নেয়া হচ্ছে নদীর পাড়। বেইলি ব্রিজটি প্রশস্ত করে স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হলে শহরে যানজটের নিরসনে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!