লালমোহন পৌরশহরের বিভিন্ন পোশাকের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, নারী ও শিশুদের পোশাক বেশি বিক্রি হচ্ছে। ঈদ মার্কেটে এ বছর ক্রেতাদের বেশি চাহিদা আলিয়া কার্টিন, সারারা-গারারা থ্রি পিস, নায়রা কাট ড্রেস, টু-পিস কামিজ-সেলোয়ার, গাউনসহ বিভিন্ন ব্রান্ডের শাড়ি।
এছাড়া ঈদ উপলক্ষ্যে পুরুষদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি পাঞ্জাবিতে। কেবল পৌরসভার দোকানগুলোই নয়, ঈদের পোশাক কেনা-কাটায় জমে উঠেছে গ্রাম-গঞ্জের বাজারগুলোও।
.png)
পৌরসভার হাইস্কুল সুপার মার্কেটের মারুফ ফ্যাশনের সত্বাধিকারী মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, এ বছর ঈদ উপলক্ষে বিক্রি অনেক ভালো। তবে আমরা পোশাক বেশি দামে কিনে আনতে হয়েছে। এজন্য বিক্রিও একটু বেশি দামেই করতে হচ্ছে। এ নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে অনেক দামাদামি করতে হয়। তারপরও সীমিত লাভেই ক্রেতাদের কাছে তাদের পছন্দের পোশাক বিক্রির চেষ্টা করছি।
ঈদ উপলক্ষে পোশাক কিনতে আসা মমতা ও হাফছাসহ কয়েকজন নারী ক্রেতা জানান, পোশাকের দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি। কোনো পোশাক পছন্দ হলেই দোকানদাররা আকাশ ছোঁয়া দাম চাচ্ছেন। তারপরও দামাদামি করে যতটুকু কমিয়ে কেনা যায়, তা দিয়েই পোশাক কিনতে হচ্ছে।
মো. রুবেল হাওলাদার নামে এক পুরুষ ক্রেতা বলেন, ঈদ উপলক্ষে নিজের পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজনদের জন্য শপিং করতে এসেছি। রোজার শেষের দিকে মার্কেটে অনেক ভিড় থাকবে, এজন্য একটু আগেভাগেই এসেছি। শপিং করতে এসে বিভিন্ন দোকান ঘুরে যতটুকু মনে হয়েছে; বিগত বছরের চেয়ে এবছর পোশাকের দাম অনেক চড়া। তবুও ঈদে সাধ্যের মধ্যে যা কেনা যায় তাই কিনছি।
লালমোহন বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. মোস্তফা জানান, ঈদ উপলক্ষ্যে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আমরা সর্বোচ্চ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। রোজার শুরুতেই ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে থানা পুলিশের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি, যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। আমরা দেখছি পুলিশ ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাজারের মধ্যে নিয়মিত টহল দিচ্ছে।
লালমোহন থানার ওসি (তদন্ত) মো. এনায়েত হোসেন বলেন, আসন্ন ঈদুল ফিতরকে ঘিরে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য আমাদের থানা পুলিশের কয়েকটি টিম নিয়মিত কাজ করছে। বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। এরপরও যদি কোথায়ও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তাহলে তাৎক্ষণিক আমাদেরকে জানানোর জন্য সবার প্রতি অনুরোধ থাকবে।