স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলা সদরের দর্জিপাড়া, কানকাটা, শারিয়াল জোত, ডাঙ্গীবস্তি, সিদ্দিকনগর ও শালবাহান ইউনিয়নের পেদিয়াগছ এলাকাসহ বেশ কিছু জায়গা উঁচু এলাকা হওয়ায় চলতি মৌসুমে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। এতে অচল হয়ে পড়েছে হস্তচালিত নলকূপ। ফলে সঙ্কট দেখা দিয়েছে খাবারসহ পারিবারিক বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত পানির।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, এসব অঞ্চলে পানি সংকট চরমে পৌঁছেছে। সুপেয় পানির সংকট দেখা দেওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষদের। যাদের সাবমারসিবল পাম্প কেনার মতো সামর্থ্য নেই।
.png)
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের দেওয়া তথ্যমতে, জেলায় বর্তমানে ১০ হাজার ৭৫০টি টিউবওয়েল চালু রয়েছে। সাবমারসিবলযুক্ত টিউবওয়েল (উচ্চ জলধারাসহ) রয়েছে ৯০টি। তবে সাধারণ টিউবওয়েলের সঠিক হিসেব পাওয়া যায়নি।
দর্জিপাড়া এলাকার নুরজাহান ও মনোয়ারাসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, দুই মাস ধরে ঠিকমতো টিউবওয়েলের পানি উঠছে না। পাম্প বসিয়েও পানি মিলছে না। যারা মাটির গভীরে বডিং করে পাম্প বসিয়েছেন, তারা কিছুটা পানি পাচ্ছেন। তাদের বাড়ি থেকে পানি আনতে গেলেও বিপাকে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যাওয়ায় তারা পানি দিতে চাচ্ছেন না। কাপড়, থালাবাসন ধোয়া ও রান্নাবান্না করতে যে পানি দরকার তা মিলছে না।
নলকূপমিস্ত্রি তরিকুল ইসলাম বলেন, পঞ্চগড় জেলার মধ্যে তেঁতুলিয়ার বেশ কয়েকটি এলাকায় এই সময়ে পানির সংকট দেখা দেয়। অনেক টিউবওয়েলে পানি থাকে না। আমরা এখানে সর্বোচ্চ ৭০-৮০ ফুট পর্যন্ত পাইপ বসিয়ে নলকূপ স্থাপন করে থাকি। তারপরেও জানুয়ারি থেকেই পানির লেয়ার নামতে শুরু করে। ৪০ থেকে ৫০ ফুট পর্যন্ত পানির লেয়ার নিচে নিচে নেমে যাওয়ায় এসব অঞ্চলে সাধারণত হস্তচালিত টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। যাদের অর্থ আছে, তারা সাবমারসিবল বসাচ্ছেন। তবে, নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য খুব সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কৃষকরা বলছেন, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে অনেক স্থানে অগভীর নলকূপ (শ্যালো মেশিন) দিয়ে পানি কম উঠছে। ৮-১০ ফুট গর্ত খুঁড়ে শ্যালো মেশিনগুলো সেখানে বসানো হচ্ছে। ইঞ্জিন গর্তে বসানোর পরেও পানি উত্তোলনের পরিমাণ বাড়ছে না। কম পানি উঠছে। এতে করে বোরো আবাদসহ অন্যান্য আবাদেও সেচ খরচ অনেকগুণে বেড়েছে।
তেঁতুলিয়ার সদর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ করিম সিদ্দিকী বলেন, ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রামে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চৈত্র-বৈশাখ মাসে পানির সমস্যা দেখা দেয়। এজন্য আমরাও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। কীভাবে এ সমস্যা উত্তরণ করা যায় তা নিয়ে কাজ করছি।
তেঁতুলিয়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের প্রকৌশলী মিঠুন কুমার রায় বলেন, এ সময়ে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নেমে গেছে। গত বছর আমরা সিদ্দিকনগর এলাকায় সার্ভে করেছিলাম, তখন পানির প্রথম লেয়ার ২০ ফুট নিচে নেমে যেতে দেখেছিলাম। বিশেষ করে বরেন্দ্রসহ অনেক গভীর নলকূপ স্থাপন হওয়ায় সাধারণ নলকূপে পানি উঠে না। এখন পানির স্তর ৩০-৩৫ ফুট নিচে নেমে গেছে। এতে খাবার পানির সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।
পঞ্চগড় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিনহাজুর রহমান বলেন, এই সময়ে মাটির গভীরে পানির লেয়ার চলে যাওয়ায় পানির কিছুটা সংকট সৃষ্টি হয়। জেলার ৫টি উপজেলায় বর্তমানে পানির লেয়ার ২০ থেকে ২৫ এর মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে তেঁতুলিয়া উপজেলার সিদ্দিকনগর, তেলিপাড়া ও মমিনপাড়া তিনটি গ্রামে পানির লেয়ার ৩৫ এর নিচে নেমে যাওয়ায় ঐ এলাকাগুলোর মানুষজন টিউবওয়েলে পানি পাচ্ছেন না। তবে উচ্চ জলধারা সাবমারসিবলযুক্ত টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় সাবমারসিবলযুক্ত টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে সেসব এলাকায় এ সমস্যা নেই।