ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

‘তোরা বেশি বিরক্ত করছ’ বলেই সাংবাদিকের ওপর হামলা, সেই সাদ্দাম কারাগারে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:১৪, ২৪ এপ্রিল ২০২৪
‘তোরা বেশি বিরক্ত করছ’ বলেই সাংবাদিকের ওপর হামলা, সেই সাদ্দাম কারাগারে
ছবিতে সাদ্দাম হোসেন

চট্টগ্রামে গণমাধ্যমকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় হওয়া মামলার প্রধান আসামি মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম কাজী শরিফুল ইসলামের আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন, গণমাধ্যমকর্মীর ওপর হামলার ঘটনায় হওয়া মামলার আসামি সাদ্দাম হোসেন বুধবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান আদালত।

এর আগে, রোববার রাতে নগরের ডবলমুরিং থানার মনসুরাবাদ মসজিদের সামনে হামলার ঘটনাটি ঘটে। হামলার শিকার সেলিম উল্লাহ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের স্টাফ ক্যামেরাপার্সন।

Advertisement

ঘটনার পর রাতেই ডবলমুরিং থানায় মামলা করা হয়। মামলার পর সাতজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে পলাতক ছিলেন মূলহোতা সাদ্দাম হোসেন।

জানা যায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রোববার রাতে মনসুরাবাদ মসজিদের সামনে সংঘর্ষে জড়ায় স্থানীয় দুটি গ্রুপ। এ সময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে একটি গ্রুপের প্রধান সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে সেলিম উল্লাহর ওপর হামলা চালানো হয়। মারতে মারতে সেলিম উল্লাহকে পাশের একটি খালি জায়গায় নিয়ে যান তারা। সেখানে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও মারধরের একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।

সেলিম উল্লাহর ভিডিও ধারণ করা মোবাইলটিও ভেঙে ফেলেন তারা। আহত অবস্থায় সেলিম উল্লাহকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হামলায় তার চোখ ও পায়ের লিগামেন্টে আঘাত লাগে বলে জানান চিকিৎসকরা।

স্থানীয়রা জানান, মনছুরাবাদ এলাকায় ফুটপাতে অবৈধ ফার্নিচার মার্কেট গড়ে তোলা সাদ্দাম হোসেন মূলত একজন কিশোর গ্যাং লিডার। শুধু ফুটপাত নয়, সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের বিশাল জায়গা দখলে নিয়ে ফার্নিচারের গুদাম গড়ে তুলেছেন সাদ্দাম। তার বাহিনীর চাঁদাবাজি, ইভটিজিং, ছিনতাইসহ নানা অপকর্মে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা।

আহত সেলিম উল্লাহ জানান, দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করার সময় প্রথমেই তার ফোনটি কেড়ে নেন সাদ্দাম। এরপর তিনি বলেন, ‘তোরা সাংবাদিকরা বেশি বিরক্ত করছ।’ পরে ১৫-১৬ জন এসে সেলিমকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন। এ সময় তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টাও করা হয়।

এদিকে, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গণমাধ্যমকর্মীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)।বুধবার প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে হামলায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!