ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পেট ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে শীলা, ইনজেকশন দেওয়ার পর যা ঘটল

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:১৬, ২৫ এপ্রিল ২০২৪
পেট ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে শীলা, ইনজেকশন দেওয়ার পর যা ঘটল
নিহত আফসানা হোসেন শীলা

কক্সবাজার ইউনিয়ন হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় আফসানা হোসেন শীলা নামে প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৪ এপ্রিল) রাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আইসিউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত আফসানা হোসেন শীলা নুনিয়ারছড়ার মোহাম্মদ হোসেনের মেয়ে।

প্রসূতির স্বামী ইফতেখার জানান, গত ২১ এপ্রিল রাতে হালকা পেটে ব্যথা হওয়ায় তার স্ত্রীকে কক্সবাজারের বেসরকারি ইউনিয়ন হাসপাতালে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. নীনা জিহানের প্রাইভেট চেম্বারে নিয়ে যান। এরপর ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্লাড দেওয়া হয়। ব্লাড দেওয়ার পরপরই অসুস্থতা বোধ করেন শীলা। পরে ডা. নীনা জিহানের পরামর্শ অনুযায়ী ইউনিয়ন হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শাহেদ তার স্ত্রীকে ভর্তি করান।

তিনি আরো বলেন, ভর্তি করার পরপরই তার শরীরে ইনজেকশন পুশ করা হয়। ইনজেকশনটি পুশ করার কিছুক্ষণ পরেই তার স্ত্রীর প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়। পরে ২২ এপ্রিল রাত ২টার সময় জানানো হয় তার স্ত্রীকে ডেলিভারির জন্য রক্তের ব্যবস্থা করতে, এক ব্যাগ রক্ত চালানোর পর একটি স্যালাইন দেওয়া হয়। এরার রাত সোয়া ৩টার দিকে শাহেদ হিমু এবং সোমা নামে দুজন নার্স নিয়ে তার স্ত্রীকে ডেলিভারি করানোর জন্য অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। ডেলিভারিতে তার স্ত্রী একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। 

Advertisement

পরবর্তীতে ডাক্তাররা জানান, তার স্ত্রীর ব্লিডিং বন্ধ করা যাচ্ছে না। পরে ডাক্তার নীনা জাহানকে ইউনিয়ন হাসপাতাল থেকে বিষয়টি অবগত করা হলে তিনি বলেন, আমি সদর হাসপাতালের ডিউটিতে আছি, রোগীকে সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। আমার স্ত্রীকে সদর হাসপাতালে আনার পর তিনি আইসিইউতে প্রেরণ করেন। এরপর বুধবার রাতে তার স্ত্রীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। 

এদিকে এ ঘটনায় বুধবার (২৪ এপ্রিল) রাতে ইউনিয়ন হাসপাতাল ঘেরাও করে নিহতের স্বজনরা। ভুল চিকিৎসায় রোগী মারা যাওয়ায় ভুয়া ভুয়া বলে চিৎকার করেন। তাৎক্ষণিক পুলিশ ও আনসার সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

রোগীর স্বজনরা জানান, ইউনিয়ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুল চিকিৎসা করে আফসানাকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দিয়েছে। আমাদের মেয়ের মৃত্যুর দায় ইউনিয়ন হাসপাতালকে নিতে হবে। তারা আরো জানান, আফসানার ডেলিভারির তারিখ ছিল ৬ মে। টাকার লোভে আগাম ডেলিভারি করাতে গিয়েই এই দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে ইউনিয়ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তবে ইউনিয়ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা হয়নি। 

হাসপাতালটির আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মোসাব্বির হোসেন তানিম বলেন, নিহতের স্বজনদের করা অভিযোগগুলো পুরোপুরি ভিত্তিহীন। 

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. আসিফ আহমেদ হাওলাদার বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!