এদিকে, এমভি আবদুল্লাহর দায়িত্ব নিতে চট্টগ্রাম থেকে কুতুবদিয়ার উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছেন ২৩ নাবিকের নতুন একটি দল। সোমবার বিকেল ৪টার দিকে এমভি জাহান মণি-৩ নামে একটি লাইটার জাহাজে চট্টগ্রাম ছেড়েছেন তারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাহাজটির মালিকপক্ষ কেএসআরএম গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম।
.png)
তিনি বলেন, রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে কুতুবদিয়া পৌঁছাবে এমভি জাহান মণি-৩। মঙ্গলবার সকালে এমভি জাহান মণিতে করে চট্টগ্রামের সদরঘাটের উদ্দেশে রওয়ানা দেবেন জিম্মিদশা থেকে মুক্ত হওয়া ২৩ নাবিক।
তিনি আরো বলেন, কুতুবদিয়ায় কিছু মালামাল খালাস করবে এমভি আবদুল্লাহ। এরপর বাকি মালামাল নিয়ে ১৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে জাহাজটি। নতুন ২৩ নাবিক দল জাহাজটিকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসেবন।
এর আগে মালিকপক্ষ জানায়, সোমবার নতুন নাবিক দল যোগ দেবেন জাহাজটিতে। নতুনদের মাঝে দায়িত্ব হস্তান্তরের পরই মঙ্গলবার বিকেলে আগের নাবিকরা তীরে উঠে আসবেন। এরপর তাদের লাইটার জাহাজে করে সরাসরি সদরঘাট কেএসআরএম জেটিতে নিয়ে আসা হবে। নাবিকদের ফুল দিয়ে বরণ করতে জেটিতে উপস্থিত থাকবেন কেএসআরএম এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া নাবিকদের স্বজনদের কেউ কেউও উপস্থিত থাকবেন।
মোজাম্বিক থেকে ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে দুবাই যাওয়ার পথে গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগর থেকে ২৩ নাবিকসহ এমভি আবদুল্লাহ জিম্মি করে সোমালিয়ার জলদস্যুরা। এরপর তারা জাহাজটি সোমালিয়া উপকূলে নিয়ে যায়। ৩১ দিন জিম্মি থাকার পর ১৪ এপ্রিল ভোররাতে জাহাজটি জলদস্যু মুক্ত হয়। এ সময় ৬৫ জন জলদস্যু জাহাজ থেকে বোটে নেমে যায়।
মুক্তির পর জাহাজটি দুবাইয়ের উদ্দেশে রওনা দেয়। ২১ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৪টা নাগাদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আল হারমিয়া বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে জাহাজটি। জাহাজটিতে থাকা ৫৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লা সেখানে খালাস করা হয়। পরবর্তীতে আমিরাতের মিনা সাকার বন্দর থেকে ৫৬ হাজার মেট্রিক টন চুনা পাথর লোড করা হয়। এসব পণ্য নিয়ে দেশের পথে রওনা দেয় এমভি আবদুল্লাহ।
জাহাজটিতে থাকা ২৩ নাবিক হলেন- মাস্টার রাশেদ মোহাম্মদ আব্দুর, চিফ অফিসার খান মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ, সেকেন্ড অফিসার চৌধুরী মাজহারুল ইসলাম, ফোর্থ ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ তানভীর, ফায়ারম্যান শাকিল মোশাররফ হোসেন, চিফ কুক ইসলাম মো. শফিকুল, জেনারেল স্টুয়ার্ড উদ্দিন মোহাম্মদ নূর, রহমান মো. আসিফুর, হোসাইন মো. সাজ্জাদ, ওয়েলার হক আইনুল, শামসুদ্দিন মোহাম্মদ। তাদের সবার বাড়ি চট্টগ্রামে।
এছাড়াও আরো আছেন- লক্ষ্মীপুর ও ফেনীর ইঞ্জিন ক্যাডেট খান আইয়ুব, ইলেকট্রিশিয়ান উল্লাহ ও ইব্রাহিম খলিল, নোয়াখালীর নাবিক হক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ও ফাইটার আহমেদ মোহাম্মদ সালেহ, খুলনার সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার ইসলাম মো. তৌফিকুল, ফরিদপুরের থার্ড অফিসার ইসলাম মো. তারেকুল, টাঙ্গাইলের ডেক ক্যাডেট হোসাইন মো. সাব্বির, নওগাঁর চিফ ইঞ্জিনিয়ার শাহিদুজ্জামান এ এস এম, নেত্রকোনার থার্ড ইঞ্জিনিয়ার উদ্দিন মো. রোকন, নাটোরের অর্ডিনারি সীম্যান মোহাম্মদ জয়, সিরাজগঞ্জের হক মো. নাজমুল ও বরিশালের হোসাইন মো. আলী।