ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চাকরির নামে প্রধান শিক্ষকের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ

আতিকুর রহমান, ঝালকাঠি
প্রকাশিত: ১৫:৩৫, ১৬ মে ২০২৪
চাকরির নামে প্রধান শিক্ষকের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

*রয়েছে নারী কেলেঙ্কারি
*
সরকারি ভবন বিক্রির নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ
*ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করা
*শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে খারাপ আচরণ
*রয়েছে বিভাগীয় মামলা

চাকরি দেওয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন প্রধান শিক্ষক। এ অভিযোগ ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার ৭৯ নম্বর উত্তর বাঁশবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাহারুম মিয়ার নামে।

Advertisement

এছাড়া নারী কেলেঙ্কারি, নিলাম না হওয়া সত্ত্বেও সরকারি ভবন বিক্রি করার কথা বলে টাকা নেয়া, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করা, বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে ফেরত না দেওয়া, স্কুলে না গিয়েও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করা ও শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে খারাপ আচরণসহ নানা অভিযাগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ঐ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। কিছুতেই তার লাগামহীন অন্যায় থামছেই না। অন্যের স্ত্রী ছনিয়া আক্তার নামের এক শিক্ষিকাকে বিয়ে করে স্কুলে না গিয়ে বরিশাল শহরে বাসা ভাড়া করে বসবাস করছেন প্রধান শিক্ষক মো. সাহারুম মিয়া।

প্রতিদিন ব্যাংক ও অন্যান্য পাওনাদাররা বাড়িতে গিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এক পাওনাদার ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার ও জেলা শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নর দক্ষিণ চেঁচরী গ্রামের বাসিন্দা মো. হুমায়ুন কবির ওরফে সিদ্দিক জমাদ্দারের ছেলে ইমরান হাসেন রিমনকে তার স্কুলে ২-৩ মাসের মধ্যে অফিস সহায়ক কাম নৈশপ্রহরী পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বল চার লাখ টাকা নেন প্রধান শিক্ষক সাহারুম মিয়া। ৩-৪ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও চাকরির খবর নেই এবং সাহারুম মাস্টারেরও খবর নেই। পরে তিনি জানতে পারেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক ছাড়া অন্য পদে নিয়াগ বন্ধ। প্রায় তিন বছর আগে এ টাকা নেয়ার পর থেকে সাহারুম মাস্টার উধাও। তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। উপায় না পেয়ে প্রতারণার এ ঘটনা ঝালকাঠি পুলিশ সুপার এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিতভাবে জানিয়ে প্রতিকার চেয়েছেন ভুক্তভোগী।

অভিযাগে আরো জানা যায়, ৭৯ নম্বর উত্তর বাঁশবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নিলাম দেওয়ার কথা বলে উপজেলার মহিষকান্দি গ্রামের সামসুল হকের ছেলে রাজমিস্ত্রি জালাল হোসেনের কাছ থেকে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা নেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ভবনটি নিলাম হয়নি। নিলাম ২-১ বছরেও হবে না।

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার ব্যবসায়ী আবুল খায়ের লাকি জমাদ্দারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা, বাঁশবুনিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নান হাওলাদারের এক লাখ ২০ হাজার টাকা, একই গ্রামের মিনতি রানীর এক লাখ ৩০ হাজার টাকা, পশ্চিম আউরা গ্রামের আবুল কালামের ৫ লাখ টাকা, দক্ষিণ চেঁচরী গ্রামের সালাম জমাদ্দারের স্ত্রীসহ বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে তা ফেরত দিচ্ছেন না অভিযুক্ত সাহারুম মিয়া।

এছাড়া সোনালী ব্যাংক থেকে ১০ লাখ, রুপালী ব্যাংক ১৫ লাখ, আমুয়া অগ্রণী ব্যাংক থেকে আড়াই লাখ টাকা এবং এনজিও আমানত থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয় তা পরিশোধ করছেন না তিনি।

পাওনাদার ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা গেছে, ঐ স্কুলের সহকারী শিক্ষক ছনিয়া আক্তার অন্যের স্ত্রী। তাকে ফুসলিয়ে বিয়ে করেন সাহারুম মাস্টার। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব হলে সাহারুমকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেন দ্বিতীয় স্ত্রীর ভাইয়েরা।

ভুক্তভোগী জালাল হাসেন বলেন, ‘হেড মাস্টার সাহারুম মিয়া স্কুলের দালান নিলামে আমাকে পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে। এ সময় কাগজে আমার সইও নিয়েছে। এখন দালানও পাইনা, টাকাও পাইনা। আমি গরিব মানুষ, কি করবো বুঝতে পারছি না।’

ব্যবসায়ী আবুল খায়ের লাকি জমাদ্দার বলেন, ভান্ডারিয়ার এক পাওনাদারের হাতে আটক হওয়ার পর উদ্ধার পেতে চেকে স্বাক্ষর দিয়ে আমার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেন সাহারুম মাস্টার। ব্যাংক থেকে লোন উঠিয়ে টাকা দেওয়ার কথা। দুই বছর হয়েছে টাকা পাচ্ছি না। বহুবার স্কুলে ও বাড়িতে গিয়েও তার সন্ধান মেলেনি। বাধ্য হয়ে কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সোনালী ব্যাংক কাঠালিয়া শাখার ম্যানজারের কাছে অভিযোগ দিয়েছি।

সোনালী ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপক রেজাউল করিম বলেন, আমাদের ব্যাংকের ঋণ পরিশাধ করছে না সাহারুম মিয়া। মাঝে মাঝে মোবাইলে কথা বলে, ব্যাংকে আসে না। ঋণের কিস্তিও পরিশোধ করছে না।

উপজলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, সাহারুম মাস্টারর আচার-আচরণ মোটেই শিক্ষকসুলভ নয়। মাসিক সমন্বয় সভায় উপস্থিত হয়ে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে অভিযাগের শেষ নেই।

কাঠালিয়া উপজলা নির্বাহী অফিসার মো. নেছার উদ্দিন বলেন, ঐ প্রধান শিক্ষকর বিরুদ্ধ স্কুল ফাঁকি, উপজলা শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে খারাপ আচরণ, ব্যাংক এনজিও এবং বিভিন্ন জনের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ আছে।

এ ব্যাপার অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. সাহারুম মাস্টারের বক্তব্য জানতে তার মুঠাফোনে একাধিবার কল করলেও তা তিনি রিসিভ করছেন না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!