ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন

দুই শিশু সন্তানসহ স্ত্রীকে হত্যা, লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি স্বামীর

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:০৫, ২৩ মে ২০২৪
দুই শিশু সন্তানসহ স্ত্রীকে হত্যা, লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি স্বামীর
সংবাদ ব্রিফ্রিংয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. শামীম হোসেন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ময়মনসিংহের ত্রিশালে চাঞ্চল্যকর নারী ও দুই শিশু সন্তান হত্যাকাণ্ডের রহস্যভেদ করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া নিহত নারীর স্বামী আলী হোসেন লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ ব্রিফ্রিংয়ে এ তথ্য জানান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. শামীম হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঘাতক আলী হোসেন ২০১২ সালে দায়ের হওয়া আরো একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি। ওই মামলায় তিনি টানা পাঁচ বছর কারাভোগ করে ২০১৭ সালের আগস্টে জামিনে মুক্তি লাভ করে। এরপর তিনি ২০১৯ সালে তার আপন মামাতো বোন আমেনা খাতুনকে বিয়ে করে দিন মজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করছিল। এরই মাঝে তাদের দাম্পত্য জীবনে আবু বক্কর সিদ্দিক ও আনাছ নামে দুটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। ফলে তার চার সদস্যের সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকতো। এ কারণে সম্প্রতি তিনি একটি এনজিও থেকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা ঋণ করেন। ওই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় প্রায়ই তাদের অপমান করা হতো। এতে হতাশ আলী হোসেন স্ত্রী-সন্তানদের হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যার পরিকল্পনা করে। এরই মাঝে গত ১৬ মে রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হলে গভীর রাতে স্ত্রীকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে আলী হোসেন। এরপর স্ত্রীর ওড়না দিয়ে ঘুমন্ত দুই সন্তানকে হত্যা করে বাড়ির পাশের নির্জন স্থানে গর্ত করে মাটিতে পুঁতে রেখে পালিয়ে যান তিনি।

Advertisement

গ্রেফতার আলী হোসেন।এ ঘটনায় নিহত আমেনা খাতুনের মা হাসিনা খাতুন গত ২২ মে ত্রিশাল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ আসামি গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে। এরপর বুধবার বিকেলে গাজিপুর জেলার শ্রীপুর বাজার এলাকা থেকে আলী হোসেনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মোহাইমেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফালগুনি নন্দী, সহকারী পুলিশ সুপার তাহমিনা, জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেনসহ এই গ্রেফতার অভিযানে অংশ নেওয়া ডিবি পুলিশের সদস্যরা।

এর আগে গত ২১ মে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের কাকচর নয়াপাড়া গ্রামে একটি নির্জন স্থানে শিয়ালের টানাহেচড়ায় এক নারী ও দুই শিশুকে মাটি খুঁড়ে পুঁতে রাখার ঘটনার সন্ধান পায় এলাকাবাসী। এ ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। 

নিহতরা হলেন ঘাতক আলী হোসেনের স্ত্রী আমেনা খাতুন, তার শিশুপুত্র আবু বক্কর সিদ্দিক ও আনাছ।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: ময়মনসিংহ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!