ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে চান্দহর ইউনিয়নের চক চালিতাপাড়া গ্রামের খবির হোসেনের স্ত্রী রোজিনা আক্তারের পেটে ব্যাথা শুরু হয়। পরে স্বজনরা তাকে পাশের ফতেপুর গ্রামের নরেন্দ্র চন্দ্র মালোর বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়ির মধ্যে নাম পরিচয়হীন একটি ফার্মেসিতে বিকেল থেকে রাত ২টা পর্যন্ত রোজিনাকে ইনজেকশন ও স্যালাইন পুশ করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। রাত ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারীর মৃত্যু হয়।
রোজিনা আক্তারের স্বামী খবির হোসেন বলেন, সন্ধ্যা থেকে রাত দুইটা পর্যন্ত আমার স্ত্রীকে বিভিন্ন ইনজেকশন ও স্যালাইন পুশ করেন ডা. নরেন্দ্র। রাত ১১টার দিকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে চাইলে ডাক্তার নরেন্দ্র নিষেধ করেন। ডাক্তার নরেন্দ্র আমাকে বলেন, ‘তুমি কী আমার চেয়ে বেশি বুঝো নাকি। আর একটা স্যালাইন পুশ করলেই তিনি সুস্থ হয়ে যাবে। রাত দুইটার পরে একটা ইনজেকশন পুশ করার সঙ্গে সঙ্গে আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়।’
.png)
খবির হোসেন আরো বলেন, রোববার সকালে স্থানীয় তিন ইউপি সদস্য দ্বীন ইসলাম, কলিমুদ্দিন ও সালাউদ্দিন এবং স্থানীয় এনাম, দেলোয়ার হোসেনসহ স্থানীয়রা বিষয়টি সমাধান করে দেন। এ নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করে ও জোর করে সাদা কাগজে আমার স্বাক্ষর রাখে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য দ্বীন ইসলাম বলেন, সকলের সম্মতি নিয়ে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। কাউকে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি। যেহেতু বিষয়টি সমাধান হয়েছে তাই ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করা হয়।
এ বিষয়ে ডা. নরেন্দ্র চন্দ্র মালো পলাতক থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
সিংগাইর থানার ওসি জিয়ারুল ইসলাম বলেন, ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর খবর আমরা পাইনি। তবে ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।