ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নামের মিলে ফায়দা লোটার অপচেষ্টা, যেভাবে রক্ষা পেল ৯ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:০১, ৭ জুন ২০২৪
নামের মিলে ফায়দা লোটার অপচেষ্টা, যেভাবে রক্ষা পেল ৯ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি
ফাইল ফটো

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ২ নম্বর মধুহাটি ইউনিয়নের চারটি মৌজায় বিপুল পরিমাণ ‘ক’ তফসিলভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি ছিল। ঐ সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে বাবার নামের সঙ্গে মিল থাকায় ২০১৩ সালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কালীচরণপুর গ্রামের প্রদ্যুত মিত্রের ছেলে স্মৃতি মিত্র নামে এক ব্যক্তি ভুয়া ওয়ারিশ সেজে দুটি মামলা করেন। তবে আদালতের রায়ে ব্যর্থ হয়েছে ভুয়া ওয়ারিশ সেজে জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারের ‘ক’ তফসিলভুক্ত ৯ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা। 

বৃহস্পতিবার (৬ জুন)  এ রায় দেন ঝিনাইদহ অতিরিক্ত জেলা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. আব্দুল মতিন। 

জেলা প্রশাসকের ভিপি শাখা ও মামলার রায় সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ২ নম্বর মধুহাটি ইউনিয়নের ৪টি মৌজায় বিপুল পরিমাণ ‘ক’ তফসিলভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি ছিল। ২০১৩ সালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কালীচরণপুর গ্রামের প্রদ্যুত মিত্রের ছেলে স্মৃতি মিত্র নামে এক ব্যক্তি ভুয়া ওয়ারিশ সেজে ঐ জমি দাবি করে অর্পিত সম্পত্তি আইনে দুটি মামলা করেন। 

Advertisement

মামলায় বাদী দাবি করেন, সদর উপজেলার মধুহাটি ইউনিয়নের ২০ নম্বর বসুপুর, ২১ নম্বর মহামায়া, ২২ নম্বর বামুনপাড়া পদ্মবিলা ও ৪৮ নম্বর চান্দুয়ালী মৌজায় তার পূর্ব পুরুষরা ২৪ দশমিক ৪৪ একর জমির মালিক ছিলেন যা পরবর্তীতে ভিপি তালিকাভুক্ত (‘ক’ তফসিল) হয়। ওয়ারেশ প্রমাণে বাদী স্মৃতি মিত্র জাল কাগজপত্র ও ওয়ারেশ কায়েম সনদও সংগ্রহ করেন। 

এলাকাবাসী আজিজুর রহমান সালাম জানান, ১৯৪৭ সালে রায়টের সময় বসুপুর, মহামায়া ও বামুনপাড়া পদ্মবিলা এলাকার অনেক হিন্দু তাদের জমিজমা ও অস্থাবর সম্পত্তি ফেলে ভারতে চলে যান। ফলে বসুপুর ও বামুনপাড়া পদ্মবিলা মৌজা হিসেবে বহাল থাকলেও সেখানে কোনো গ্রাম নেই। আগে এই দুটি স্থানে গ্রাম ছিল। সেই জমিগুলো পরবর্তীতে ‘ক’ তফসিল হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়।

এদিকে ৭ বছর মামলা চলার পর ২০২০ সালে ঝিনাইদহের নিম্ন আদালতের বিচারক কে এম আলমগীর হোসেন বাদী স্মৃতি মিত্রের পক্ষে রায় দেন। এ নিয়ে সে সময় ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনে হৈ চৈ পড়ে যায়। মামলায় হেরে ২০২০ সালে জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথের নির্দেশে সরকার পক্ষ আবার আপিল করেন।

জানা গেছে, মামলার বাদী স্মৃতি মিত্রের পিতার নাম ও উল্লেখিত ৮৩ বিঘা জমির প্রকৃত মালিকের বাবার নাম এক হলেও দাদার নাম ছিল ভিন্ন। জমির প্রকৃত মালিকের দাদার নাম ছিল হেমন্ত কুমার এবং তাদের কোনো ওয়ারিশ বাংলাদেশে নেই। পক্ষান্তরে মামলার বাদীর দাদার নাম রঞ্জন কুমার মিত্র। আর এটাই আদালতে প্রমাণিত হওয়ার পর সরকারের ‘ক’ তফসিলভুক্ত বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা ভেস্তে যায়। 

বৃহস্পতিবার বিকেলে সরকার পক্ষের ভিপি কৌশলী অ্যাডভোকেট সুভাষ বিশ্বাস মিলন জানান, সরকারের পক্ষে মামলাটি খুবই চ্যালেঞ্জ ছিল। আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি বাদীর দাদার নাম এক এবং প্রকৃত জমির মালিকের নাম ভিন্ন ভিন্ন। ফলে আদালত বিচক্ষণতার সঙ্গে রায় প্রদান করেন।

তিনি আরো জানান, এই মামলায় মধুহাটী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহম্মেদ জুয়েল ও বর্তমান চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেনসহ পাঁচজন সরকারের পক্ষে সাক্ষ্য দেন। বাদীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মীর সাখাওয়াত হোসন।

মধুহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন জানান, মামলার বাদী স্মৃতি মিত্রের পিতার নাম ও ভারতে থাকা জমির বর্তমান ওয়ারিশদের বাবার নামের মিল থাকলেও দাদার নাম ভিন্ন ভিন্ন। আমি সাক্ষ্য প্রদানের সময় এ কথায় বলেছি।

তিনি আরো জানান, বসুপুর, মহামায়া, বামুনপাড়া পদ্মবিলা ও চান্দুয়ালী মৌজায় এখন ১০-১২ লাখ টাকা করে জমির বিঘা। সেই হিসাবে ৮৩ বিঘা জমির দাম আনুমানিক ৯ কোটি টাকা হবে। এ ব্যাপারে মামলার বাদী স্মৃতি মিত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি রায় নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!