ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

একদিনে বজ্রপাতে ৯ জনের মৃত্যু

মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২:৩৪, ৭ জুন ২০২৪
একদিনে বজ্রপাতে ৯ জনের মৃত্যু
ফাইল ছবি

দেশের চার জেলায় বজ্রপাতে নারীসহ নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার পৃথক সময়ে বজ্রপাতের এসব ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে নওগাঁয় তিনজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিনজন, নাটোরে দুইজন ও চট্টগ্রামে একজন রয়েছেন। জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

নওগাঁ: জেলার পত্নীতলা ও মান্দা উপজেলায় বজ্রপাতে দুই কৃষক ও এক নারীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বিকেলে ঝড়-বৃষ্টির সময় দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।

নিহতরা হলেন, পত্নীতলা উপজেলার পাটিচড়া ইউনিয়নের নাগরগোলা গ্রামের বিশা মণ্ডলের ছেলে খাদেমুল ইসলাম (৫০) ও গাহন গ্রামের আব্দুল হামিদের স্ত্রী মনিকা (৩৫) এবং মান্দা উপজেলার ভোলাম গ্রামের ফইমদ্দিন মণ্ডলের ছেলে শামসুল আলম (৩৪)।

Advertisement

পত্নীতলা থানার ওসি মোজাফফর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিকেলে বৃষ্টির মধ্যে কৃষক খাদেমুল ইসলাম মাঠ থেকে ধান নিয়ে বাড়িতে আনেন। তিনি উঠানে থাকা অবস্থায় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, গৃহবধূ মনিকা বাড়ির সামনে আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে স্বজনরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মান্দা থানার ওসি মোজাম্মেল হক কাজী জানান, বিকেলে হঠাৎ করেই আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। কৃষক শামসুল মেঘ দেখে বাড়ির পাশের মাঠে কেটে রাখা ধানের আঁটি এক জায়গায় জড়ো করতে যান। স্ত্রী লালবানুও তার সঙ্গে ছিলেন। এ সময় বজ্রপাতে আহত হন শামসুল। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথেই মৃত্যু হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: এ জেলায় বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বিকেলে শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলার হঠাৎপাড়া এলাকা এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, শিবগঞ্জ পৌর এলাকার আলীডাঙ্গা মহল্লার সুভাস ভকতের স্ত্রী ববি ভকত (৩২), উপজেলার পাকা ইউনিয়নের দক্ষিণপাকা নিশিপাড়ার এরশাদ আলী রাকিবুলের মেয়ে কবিতা খাতুন (৮) ও ভোলাহাট উপজেলার হঠাৎপাড়া এলাকার এসলাম আলীর মেয়ে আমেনা খাতুন (১০)।

শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, দুপুরে ববি ভকত বাড়ির সামনের একটি আমবাগানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় বজ্রপাতে তিনি মারা যান। অন্যদিকে একই সময়ে টিউবওয়েলের পানি আনতে গিয়ে পাকা ইউনিয়নের দক্ষিণ নিশিপাড়া এলাকায় কবিতা খাতুন নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

ভোলাহাট থানার ওসি সুমন কুমার জানান, উপজেলার বড়গাছি গ্রামের হঠাৎপাড়া এলাকার একটি আমবাগানে আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন আমেনা খাতুন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রাম: জেলার সন্দ্বীপ উপজেলায় চরে ফুটবল খেলার সময় বজ্রপাতে রাফি (১৫) নামের এক মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। বেলা ১১টার দিকে উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।

রাফি স্থানীয় খান সাহেব নুরিয়া হাফেজিয়া মাদরাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র ছিল। সে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝের বাড়ির জামাল উদ্দিনের ছেলে।

গাছুয়া ইউনিয়নের মেম্বার সোহেল জানান, রাফি অন্য ছেলেদের সঙ্গে বৃষ্টিতে চরে ফুটবল খেলছিল। এ সময় বজ্রপাতে সে মারা যায়।

নাটোর: জেলার নলডাঙ্গায় বারনই নদীতে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে কামরুল হোসেন (৩৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় মজনু (৪০) নামে আরেকজন আহত হয়েছেন। দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার কোমরপুর এলাকায় এ বজ্রপাতের ঘটে।

নিহত কামরুল হোসেন উপজেলার কোমরপুর গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে। আহত মজনু একই গ্রামের আহমদ আলীর ছেলে।

ব্রহ্মপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুজ্জামান জানান, দুপুরে মজনু ও কামরুল হোসেন কোমরপুর গ্রামের গোরস্থান সংলগ্ন বারনই নদীতে জাল দিয়ে মাছ ধরছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই কামরুলের মৃত্যু হয়। আহত হন মজনু। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা কামরুলের মরদেহ উদ্ধার করেন।

নলডাঙ্গা থানার ওসি মো. মনোয়ারুজ্জামান বজ্রপাতে নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে, জেলার গুরুদাসপুর পৌর এলাকায় বজ্রপাতে আবেরা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবেরা দুই সন্তানের জননী এবং ওই এলাকার আনন্দ নগর গ্রামের সাদ্দাদ হোসেনের স্ত্রী। 

নিহতের স্বজন ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফজলুর রহমান ফজল বলেন, শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে আকাশে মেঘ দেখে আবেরা বেগম বাড়ির পাশে ডোবা থেকে হাঁস ফিরিয়ে আনতে যান। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে তিনি একটি আম গাছের নিচে আশ্রয় নেন। সেখানে বিকট শব্দে একটি বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক চৈতি মুন্সি বলেন, দুপুরে ওই গৃহবধূকে তার স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে বজ্রপাতের কোনো লক্ষণ পাওয়া না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে বজ্রপাতের শব্দে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!