এদিকে, কোরবানির পশু পরিবহন ও পশুরহাট কেন্দ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। জাল টাকা শনাক্তকরণসহ গুরুত্বপূর্ণ হাটে রয়েছে প্রাণিসম্পদের ভেটেনারি মেডিকেল টিম। ক্রেতাদের চাহিদা ও সুবিধার কথা চিন্তা করে পশুর হাটের পাশাপাশি অনলাইনে গবাদিপশু কেনাবেচা চলছে।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্যমতে, গত বছর এ বিভাগের চার জেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৭৮৯টি এবং চাহিদার তুলনায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৭৯টি পশু অতিরিক্ত ছিল। এ বছর বিভাগে কোরবানির জন্য প্রস্তুত গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া মিলিয়ে নিরাপদ গবাদি পশুর সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ৬১ হাজার ৭৮০টি। এ বিভাগে কোরবানিযোগ্য গবাদি পশুর চাহিদা প্রায় ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬টি এবং উদ্ধৃত্ত ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬৮৪টি।
.png)
এ বছর ময়মনসিংহ জেলায় কোরবানির জন্য ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯২৬টি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৯৮ টি। ষাঁড়, বলদ ও গাভি মিলিয়ে মোট কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ৮৪ হাজার ৬টি এবং মহিষ ১ হাজার ৮৪১টি, ছাগল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭০২টি ও ভেড়া ৭ হাজার ৩৭৭টি।
নেত্রকোণা জেলার কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গবাদিপশুর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৮২টি এবং চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৩৮৮টি। জামালপুর জেলায় গবাদিপশুর সংখ্যা রয়েছে ৯৫ হাজার ১৭০টি ও চাহিদা আছে ৫১ হাজার ৫৩১টি এবং শেরপুরে গবাদিপশুর সংখ্যা ৮৩ হাজার ৮০২টি ও চাহিদা আছে ৫৭ হাজার ৫৭৯টি।
রোববার (১৬ জুন) সকালে জেলার মুক্তাগাছায় কোরবানি পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, গরু, ছাগল ও ভেড়ার জমজমাট হাট বসেছে। সবচেয়ে বেশি রয়েছে গরু। তবে বড় গরুর চাইতে ছোট ও মাঝারি গরুগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে।
এ সময় কথা হয় জাহিদুর রহমান নামের এক বিক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার দুইটি দেশীয় জাতের মাঝারি গরু নিয়ে হাটে এসেছি। এরইমধ্যে একটি বিক্রি হয়ে গেছে। শেষ মুহূর্তের বেচাকেনা, তাই মোটামুটি লাভ হলেও বিক্রি করে দেবো।
মুক্তাগাছা পৌর এলাকার খামারি জয়নাল মিয়া বলেন, ফ্রিজিয়ান জাতের ৪টি বড় গরু নিয়ে হাটে এসেছি। গরুগুলো বেশি বড় হওয়ায় দামও বেশি। এবার বড় গরুর ক্রেতা খুব কম। বেশিরভাগ ক্রেতা ছোট ও মাঝারি গরু কিনছেন। তবুও আশা করছি, শেষ পর্যন্ত আমার গরুগুলো বিক্রি হবে।
গত কিছুদিন ধরে গরুর দাম বেশি থাকলেও শেষ মুহূর্তে দাম কিছুটা কমেছে উল্লেখ করে রবিউল আওয়াল নামের একজন ক্রেতা বলেন, গরুর দাম কমে গেছে। তাই মাঝারি আকারের একটি গরু ৯০ হাজার টাকায় কিনতে পেরেছি।
বাদশা মিয়া নামের আরেকজন ক্রেতা বলেন, এই হাটে প্রচুর কোরবানির পশু উঠেছে। বড় গরু কম বিক্রি হচ্ছে। আমি মাঝারি আকারের গরু দেখছি। দরদাম মিলে গেলেই কিনবো।
প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ময়মনসিংহের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মনোরঞ্জন ধর বলেন, বিভাগের চার জেলায় এবার ৪১৯টি কোরাবানির পশুরহাট বসেছে। স্থায়ী হাট ১৯৪টি এবং অস্থায়ী হাটের সংখ্যা ২২৫টি। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হাট রয়েছে ১০২টি। প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভেটেনারি মেডিকেল টিম রয়েছে ১১৯টি পশুরহাটে।
কোরবানির পশু পরিবহন ও পশুরহাট কেন্দ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক শাহ আবিদ হোসেন। তিনি বলেন, পশুরহাটগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। হাটে কোনো প্রকার জাল নোট যেন না থাকে সেদিকে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। পশুবাহী যানবাহনে চাঁদাবাজি ও জোর করে এক হাটের পশু অন্য হাটে নামিয়ে নিলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।