ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

প্রেম-বিয়েই আসিফের নেশা, নিঃস্ব ৪ তরুণী

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৫৫, ২০ জুন ২০২৪
প্রেম-বিয়েই আসিফের নেশা, নিঃস্ব ৪ তরুণী
আসিফ ইকবাল। ছবি: সংগৃহীত

আসিফ ইকবাল। বিয়ে যেন তার নেশা। ৩০ বছরের এই যুবক একে একে বিয়ে করেছেন চারটি। বিয়ে করেই কৌশলে স্ত্রীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেন টাকা-পয়সা ও অলঙ্কার। তার কথার অমান্য করলেই নেমে আসতো অমানবিক নির্যাতন। তার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মামলা করেছেন ৩য় স্ত্রী।

বুধবার (১৯) বিকেলে ৩য় স্ত্রীর করা যৌতুক মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত তাকে। কারাগারে যাওয়া আসিফ ইকবাল সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার রামভদ্রপুর গ্রামের আকরাম আলীর ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আসিফ ইকবাল বর্তমানে একটি বেসরকারি ব্যাংকের চট্টগ্রাম শাখায় ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট ক্যাশ অফিসার পদে কর্মরত। তিনি ২০১৬ সালে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। পরে ধর্ষণ মামলা হলে কারাভোগও করেন আসিফ। পরে ওই মেয়েকে বিয়ে করার পর পরিবার থেকে মামলা তুলে নিলে জেল থেকে ছাড়া পান তিনি। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পরই সেই মেয়েকে ডিভোর্স দেন তিনি।

Advertisement

এরপর বিভিন্ন তরুণীদের সঙ্গে আবারো প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন আসিফ। ২০২০ সালে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক ছাত্রীকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পর আবারো অন্য মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। ২য় স্ত্রী থাকা অবস্থায় আবারো বিয়ের জন্য উঠেপড়ে লাগেন আসিফ।

২০২১ সালের ২৬ জুলাই ২য় স্ত্রী থাকা অবস্থায় বিষয়টি গোপন করে ঝিনাইদহের বনানীপাড়ার ফাতেমা নামে এক তরুণীকে বিয়ে করেন আসিফ। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে ঝিনাইদহে অবস্থান করেন তিনি। ২য় স্ত্রী থাকা অবস্থায় আবারো বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ২য় স্ত্রীকে ডিভোর্স দেন। ফাতেমাকে বিয়ের কিছুদিন পর আবারো পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন। সর্বশেষ তার কাছ থেকে যৌতুক দাবি করা শুরু করেন। যৌতুক না দিলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন আসিফ। যৌতুক না পেয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে ফাতেমাকেও ডিভোর্স দেন। পরে আবারো উম্মে হাবীবা প্রান্তি নামে এক মেয়েকে বিয়ে করে।

৩য় স্ত্রী ফাতেমা বলেন, আসিফ একজন প্রতারক ও যৌতুক লোভী। ২য় স্ত্রী থাকা অবস্থায় আমাকে বিয়ে করেছে। আমার পর আরো এক মেয়েকে বিয়ে করেছে। এমনকি চতুর্থ বিয়ে করা অবস্থায় ফেসবুকে এক মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে তাকেও বিয়ে কথা বলেছে। আমার কাছ থেকে যৌতুক না পেয়ে আমাকে ডিভোর্স দিয়েছে। আমি মামলা করেছি, সেই মামলায় আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি শাহিন উদ্দিন বলেন, আদালতে জামিন চাইলে বিচারক আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

 
ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!