কালিয়ায় প্রতিপক্ষের হামলায় পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যুর অভিযোগ
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ী বাজার এলাকায় প্রতিপক্ষের হামলার নয়দিন পর পল্লী চিকিৎসক রজিবুল ইসলাম মিঠু (৪৭) মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে ভুক্তভোগীর পরিবার সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিপক্ষ রবিউল ইসলাম বিপুলসহ তার লোকজন পল্লী চিকিৎসক মিঠুকে তার চেম্বারে ২২ জুন লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক মারধর করেন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ জুন দুপুরে নিজেদের বাড়িতে মারা যান মিঠু। সোমবার নড়াইল জেলা হাসপাতালে মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে মিঠুকে দাফন করা হয়।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চাঁচুড়ী এলাকায় দুইপক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। একটি পক্ষে নেতৃত্ব দেন-রবিউল ইসলাম বিপুল এবং অপর পক্ষে শিবলী রোমান প্রিন্স। পল্লী চিকিৎসক মিঠু প্রিন্সের পক্ষের লোক ছিলেন।
মিঠুর স্ত্রী ডালিয়া বেগম বলেন, গত ফেব্রয়ারি মাসে বিপুল পক্ষের এক ব্যক্তি হত্যকাণ্ডের শিকার হন। এ ঘটনায় উদ্দেশ্যমূলক আমার স্বামীকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় চার মাস কারাগারে থাকার পর ১৯ জুন জামিন পেয়ে বাড়িতে আসেন তিনি। তিনদিন পর (২২ জুন) চাঁচুড়ী বাজারে নিজের চেম্বারে গেলে প্রতিপক্ষের বিপুল ও তার লোকজন মিঠুকে লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করেন।
আহত হওয়ার পর মিঠুকে হাসপাতালে নিতেও বাধা দেওয়া হয়। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেন। হাসপাতালে নিতে না পারায় দুদিন ধরে বাড়িতে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ২৫ জুন নড়াইল শহরের বেসরকারি ক্লিনিকে মিঠুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখান থেকে বাড়িতে আনার পর ৩০ জুন দুপুরে মারা যান তিনি।
মিঠুর মেয়ে রওযা ইসলাম বলেন, আমার বাবাকে প্রতিপক্ষের বিপুলসহ তার লোকজন পিটিয়ে আহত করার নয়দিন পর মারা গেছেন। আমরা বাবা হত্যার বিচার চাই। এখন প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছে। আমরা মামলা করতে পারছি না।
কালিয়া থানার ওসি খন্দকার শামীম উদ্দিনের কাছে এ বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ওনারা (ভুক্তভোগী পরিবার) কি বলল, তাতে তো কিছু যায় আসে না। আমাদের প্রসেস যেটা, সেটা করব। ওনারা তো অনেক কিছু বলতে পারেন। আমরা অপমৃত্যু মামলা নিয়েছি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেয়া হবে।