রোববার (৭ জুলাই) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক গোলাম কবির এ রায় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর পিপি সেতারা খাতুন।
নিহত মেরিনা খাতুন একই উপজেলার গড়ভাঙ্গা গ্রামের আবুল কালাম আজাদের মেয়ে।
.png)
মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে রিপনের সঙ্গে মেরিনার বিয়ে হয়। কিন্তু বিষয়টি পারিবারিকভাবে ২০১৯ সালের ২৬ অক্টোবর মেনে নিয়ে আনুষ্ঠানিকতা করা হয়। বিয়ের সময় রিপনকে নগদ চার লাখ টাকা দেয় মেরিনার পরিবার। এর কয়েকদিনের মাথায় ফের দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন রিপনসহ তার পরিবারের সদস্যরা। টাকা না দেওয়ায় মেরিনাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন রিপন।
একপর্যায় ২০২২ সালের ৩ মে ঈদুল ফিতরের দিন বিকেলে রিপন নেশা করে বাড়িতে এসে ওই দুই লাখ টাকার জন্য মেরিনাকে চাপ দিতে থাকে। টাকা না দেওয়ায় মেরিনাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করেন রিপন। গুরুতর অবস্থায় তাকে নেয়া হয় কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। অবস্থার অবনতি হলে মেরিনাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আটদিনের মাথায় ১১ মে দুপুরে মেরিনা মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে রিপন, তার বাবা মোস্তফা দফতরি, মা নাসিমা এবং খালাতো ভাই পাজিয়া গ্রামের আল আমিন ও রিপনের চাচা সাহেব আলীসহ পাঁচজনকে আসামি দিয়ে মামলা করেন। মামলার পর রিপন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। মামলাটি তদন্ত করে কেশবপুর থানার এসআই লিখন কুমার সরকার চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। একইসঙ্গে আসামি আল আমিনকে অব্যাহতির আবেদন জানান। বিচারক চার্জগঠনের সময় এ মামলার দুই আসামি সাহেব আলী ও আল আমিনকে অব্যাহতি দেন।
এ মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে রোববার (৭ জুলাই) বিচারক আসামিদের উপস্থিতিতে রিপনকে ফাঁসির আদেশ ও তার বাবা-মাকে খালাস প্রদান করেন।