ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ফেনীতেও রাজস্ব কর্মকর্তা এনামুলের কোটি টাকার সম্পত্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩:৩৬, ৯ জুলাই ২০২৪
ফেনীতেও রাজস্ব কর্মকর্তা এনামুলের কোটি টাকার সম্পত্তি
অলংকরণ: ডেইলি বাংলাদেশ

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের মামলার পর আলোচনায় আসেন এনবিআর কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল হক। এরই মধ্যে ঢাকায় তার কয়েক কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে ফেনীর সোনাগাজীতে তার কোটি টাকার সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের মামলার পর আলোচনায় আসেন এনবিআরের এই কর্মকর্তা।

ফেনীর সদর ইউনিয়নের মনগাজী এনামুল হকের পৈত্রিক বাড়ি হলেও নতুন করে বাড়ি করেন পৌরসভার তুলাতলী এলাকায়। সিলেটের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার হিসেবে কর্মরত এনামুলের ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রাও হতবাক।

ঢাকার বসুন্ধরায় এনামুল হকের কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি জব্দ করা হয়। জব্দের তালিকায় থাকা সম্পত্তিগুলো হলো—রাজধানীর কাকরাইল, মোহাম্মদপুর ও গুলশান এলাকায় ১১টি ফ্ল্যাট এবং গাজীপুরে পাঁচ কাঠা ও ঢাকার বাড্ডায় আট কাঠা জমি। তবে তার ফেনীর সম্পত্তি নিয়ে কী হবে তা নিয়ে রয়ে গেছে ধোঁয়াশা।

Advertisement

স্থানীয়রা জানান, তাদের এলাকায় চারপাশে বাউন্ডারি দেওয়া চারটি বহুতল ভবন রয়েছে এনামুলের। যেগুলোর একটি পাঁচতলা, একটি দোতলা, আর দুটি তিনতলা বিশিষ্ট ভবন। তৃতীয় তলা বিশিষ্ট নুরে জান্নাত ভবনটি মেয়েকে দিয়েছেন এনামুল। সেখানে বাসা ভাড়ার খোঁজে গেলে বাড়ির কেয়ারটেকার জানান, এ সকল সম্পত্তির দেখাশোনা করেন এনামুলের ভগ্নিপতি শরিফ।

এছাড়াও সোনাগাজীর হাজী স্ট্যান্ড নামক এলাকায় ১২০ শতকের বাউন্ডারি দেওয়া জায়গা রয়েছে। যে সম্পত্তির বর্তমান মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি চাকরি করে এত টাকার জমি ক্রয় অবৈধ উপায় ছাড়া সম্ভব নয়। হঠাৎ এতসব সম্পত্তির মালিক বনে যাওয়া নিয়ে এলাকার মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

সোনাগাজীর চরখোন্দকার মৌজার ১২০ শতাংশ সম্পত্তি ছাড়াও থাক খোয়াজ লামছিতে আছে ১২০ শতাংশ। যেটিতে ১০-১২টি সুবিশাল দিঘী রয়েছে। এনামুলের মা ছলেয়া বেগম বলেন, ‘হের টেকাটা তো ওইভাবে আইছে। টেকার ডকুমেন্ট আছে না, আপনে কত দিছেন, ওই কত দিছে, বিদেশওয়ালা কত দিছে, দেশওয়ালারা কত দিছে। চিটাগংয়ে বাড়ি করছে, সেইটা সাড়ে ৩ কোটি টাকা বেচছে। আরও কিছু জায়গা হারাইছে-টারাইছে। হেতে (এনামুল) কি করে হেতে জানে।’

এনামুলের সম্পত্তি দেখাশোনা করেন তারই ভগ্নিপতি শরিফ। এ বিষয়ে জানার জন্য সরেজমিনে গেলে শরীফ কথা বলতে রাজি হননি।

তবে এনামুলের প্রতিবেশী ও সোনাগাজী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর নুরুনবী লিটন বলেন, ‘এনাম ভাই আমার নিকটতম প্রতিবেশী। ভালো জানাশোনা আমাদের নাই। এলাকায় আসা-যাওয়া না করার ফলে তার সঙ্গে কারো সে রকম যোগাযোগ নাই। উনার সম্পত্তি আসলে কীভাবে, কার মাধ্যমে কিনেছেন নির্দিষ্ট করে বলা আমার পক্ষে কঠিন।’

উল্লেখ্য, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় এনবিআর কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল হকের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেন ঢাকার একটি আদালত। গত বছরের ৩১ জুলাই এনামুলের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা অবৈধ আয়ের অভিযোগে মামলাটি করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম। চলতি বছরের ৫ জুন এ মামলায় কমিশনারেট অব কাস্টমস ভ্যালুয়েশন অ্যান্ড ইন্টারনাল অডিটের সাবেক কমিশনার এনামুলের সব স্থাবর সম্পত্তি জব্দ করার নির্দেশ দেন আদালত।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এনকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!