পৌরসভার অধিকাংশ সড়ক এবং বাড়ির আঙ্গিনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মার্কেট পানিতে নিমজ্জিত। অনেক বাড়ির ভেতরে পানি প্রবেশ করে আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে এবং বাড়িতে রান্না পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেছে। ৪ শতাধিক বাড়িতে পানি উঠে গেছে। অনেক টিউবওয়েলের অর্ধেক পানিতে ডুবে বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিয়েছে।
বৃষ্টিতে পৌরসভার ৭, ৬, ৪ , ৩ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের অধিকাংশ রাস্তা ও আবাসিক এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। এসব ওয়ার্ডের কুরিগ্রাম, মাছিমদিয়া, ভওয়াখালী, আলাদাতপুর, দক্ষিণ নড়াইল, দূর্গাপুর, মহিষখোলা, বরাশোলা, ভাটিয়া ও সিটি কলেজ পাড়ার অবস্থা সব চেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা।
.png)
জানা গেছে, ১৯৭২ সালে ২৮. ৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে নড়াইল পৌরসভা গঠিত হয়। ১৯৯৯ সালে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হলেও পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া চিত্রা নদী, রূপগঞ্জ-তুলারামপুর খাল, ভাদুলিডাঙ্গা-মুলিয়া খাল ও উত্তর ভওয়াখালী-বাঁশভিটা-মুলিয়া খাল এবং কয়েকটি জলাশয় দিয়ে প্রাকৃতিকভাবে পৌর এলাকার পানি নিষ্কাশন হলেও বর্তমানে এগুলো ভরাট ও দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় অপরিকল্পিতভাবেও পৌরসভার রাাস্তা নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহবুবুর রশিদ লাবলু জানান, কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ওই মহল্লার অধিকাংশ বাড়ির ভেতরে পানি উঠে গেছে। অনেকে ঘরের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন দ্রব্য ভিজে গেছে। রান্না ঘরে পানি ওঠায় চুলায় কোনো রান্না করা সম্ভব হয়নি।
নড়াইল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এস এম হালিম মন্টু বলেন, পৌরসভার এমন কোনো মহল্লা নেই যেখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়নি। এক সময় শহরের পাশ দিয়ে অনেকগুলো খাল ও জলাশয় ছিল। প্রভাবশালীরা এগুলো ভরাট ও দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
নড়াইল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কুরিগ্রাম এলাকার বাসিন্দা এনামুল কবির টুকু বলেন, আমার বাসার কাঁথা-বালিশ, আলমারিসহ প্রায় সমস্ত আসবাবপত্র ভিজে গেছে। বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। এ অবস্থায় রান্নাও করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, তার এলাকায় কোনো ড্রেন না থাকায় প্রতি বছর এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
নড়াইল পৌরসভার প্যানেল মেয়র কাজী জজিরুল হক বলেন, আপাতত ড্রেনগুলো পরিষ্কার এবং প্রয়োজনে এস্কেভেটর ও কোদাল দিয়ে মাটি কেটে পানি বের করা হচ্ছে। যেখানেই জলাবদ্ধতার খবর পাচ্ছি সেখানেই আমরা ছুটে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, বর্তমানে মাত্র ৩ কিলোমিটার ড্রেন রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজন প্রায় ৫৫ কিলোমিটার ড্রেন। পৌরসভার পাকা রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের জন্য ৪শ কোটি টাকার একটি প্রজেক্ট একনেকে পাশ হবার কথা ছিল। আগামিতে এ প্রকল্প পাশ হলে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করি।