এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে গত রোববার সেলিম তালুকদার ও তার ছেলে হৃদয় ওরফে বাহাদুর (২৮), মো. সাগর তালুকদার (২২), মোসা. শারমিন সুলতানা (২৫)-কে আসামি করে ঝালকাঠি আদালতে মামলা করেন।
বাহাদুর কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে গালুয়া কৈবর্তখালী (জি.কে.) মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্মরত আছেন।
.png)
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সনের ২৮ ডিসেম্বর ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার তারাবুনিয়া গ্রামের সেলিম তালুকদারের ছেলে সুমন ওরফে রাজু তালুকদারের সঙ্গে বিয়ে হয় ভুক্তভোগীর। বিয়ের কিছুদিন পর রাজু মালয়েশিয়ায় চলে যান। রাজু বিদেশে যাওয়ার পর বাহাদুর ভুক্তভোগীর দিকে কুনজর দেন এবং বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করেন।
ভুক্তভোগী রুমে একা থাকার কারণে গভীর রাতে বিভিন্নভাবে বাহাদুর তার মনের কুবাসনা চরিতার্থ করার পাঁয়তারা করেন। একদিন রাতে বাসার ছাদে এসে ভুক্তভোগীকে বাহাদুর পেছন দিক থেকে জড়িয়ে ধরেন। মুখ চেপে ধরে ছাদে ফেলে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। বিষয়টি ভুক্তভোগী তার মা এবং স্বামীকে জানান। অন্যদিকে, রাজু বিদেশে যাওয়ার পর থেকেই ৩ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য ভুক্তভোগীর ওপর চাপ দিতে থাকেন শ্বশুর সেলিম তালুকদার।
এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী তার বাবার বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় লোকজন নিয়ে বিষয়টির মীমাংসা করেন। এরপর সেলিম তালুকদার তার বাড়িতে ভুক্তভোগীকে নিয়ে আসেন। এর কিছুদিন পর রাতে ভুক্তভোগীর রুমের দরজা ভেঙে রুমে ঢোকেন বাহাদুর, সেলিম, সাগর, শারমিন। দরজা ভাঙার শব্দ পেয়ে ভুক্তভোগী ফোন করে বিষয়টি তার স্বামী এবং মাকে জানান। রুমের ভেতর ঢুকেই তারা ভুক্তভোগীকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর শুরু করেন। ভুক্তভোগীর স্বামী রাজু বিষয়টি তারাবুনিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে জানালে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাহাদুর জানান, সেদিন রাতে আব্বা রাজুর স্ত্রীর রুমের দরজা খুলতে বলেছেন। তিনি দরজা খোলেননি। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রেখেছেন। তখন দরজা ভাঙা হয়েছে। তারপর পুলিশ এসেছে এবং তার মা-বাবা এসে তাকে নিয়ে গেছেন।
এ বিষয়ে সেলিম তালুকদার জানান, যে ঘটনার কথা তারা বলেছেন এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমার পুত্রবধূ ঘরের দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। তখন আমরা দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেছি।