গ্রেফতারকৃতরা হলেন সোনাইমুড়ি উপজেলার পাপুয়া গ্রামের মো. সিদ্দিকের ছেলে মো. নাঈম হোসেন(২১), একই উপজেলার ভাওর কোট গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে ইমন (২০) ও কৌশল্যারবাগ গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে নাহিদুল ইসলাম(১৯)।
আসামি নাঈম হোসেনের বাবা পেশায় চায়ের দোকানদার, নাহিদুল ইসলামের বাবা পেশায় ভ্যানচালক এবং ইমনের বাবা পেশায় রিকশাচালক ছিলেন এবং সবার আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নিম্ন পর্যায়ে।
.png)
আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে তারা কেউ পড়াশোনা করতে পারেনি এবং তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণির বেশি নয় বলে জানা যায়।
তাদের কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তারা স্থানীয় কিশোর গ্যাং ওরফে বুলেট গ্যাং এর সক্রিয় সদস্য বলে জানা যায়। তারা সবাই মাদক সেবন করে এবং মাদক ব্যবসায়ীদর সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে যোগাযোগ রয়েছে। নেশার টাকা যোগাড় করার জন্য তারা এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপকর্মের সঙ্গে জড়িত বলে জানা যায়।
তাদের নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই এবং যখন যা মনে করে তখন সেই মোতাবেক কাজ করে এবং এর পরিণতি সম্পর্কে তেমন কোনো চিন্তা ভাবনা করে না।
গত ৫ আগস্ট গ্রেফতারকৃত ৩ জন সোনাইমুড়ী থানা থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে রেল লাইনের ওপর দাঁড়িয়েছিলেন। ওই সময়ে সোনাইমুড়ি থানার পুলিশ কনস্টেবল ইব্রাহিম থানা থেকে পালিয়ে রেললাইনের ওপরে আসলে তারা ৩ জন তাকে আক্রমণ করে হত্যা করে তার কাছ থেকে নগদ অর্থ এবং মোবাইল ছিনতাই করে নিয়ে নেয়। পরবর্তীতে তারা সোনাইমুড়ি থানায় প্রবেশ করে থানা থেকে অস্ত্র লুট করে পালিয়ে যায় বলে জানা যায়।
থানা থেকে লুট করা অস্ত্র দিয়ে ফেসবুকে টিকটক করার জন্য একটি ছবি পোস্ট করলে তারা পুলিশের নজরে আসে। এছাড়াও তারা ছিনতাইকৃত মোবাইল সচল রেখেছিল।
থানা থেকে লুট করা অস্ত্রসহ ফেসবুকে ছবি পোস্ট করা এবং পুলিশ কনস্টেবল ইব্রাহিমের কাছ থেকে ছিনতাই করা মোবাইলে কথা বলার সূত্র ধরে গত ১০ অক্টোবর সোনাইমুড়ি থানা পুলিশ তাদের ৩ জনকে গ্রেফতার করে এবং ১১ অক্টোবর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী শেষে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে নোয়াখালী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তারা জেল হাজতে রয়েছেন।
ধারণা করা হচ্ছে তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেনি।