বেলা আড়াইটায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় বাস চলাবল বন্ধ ছিল। শ্রমিকরা বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থান নিয়ে মারধরের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছিলেন।
পরিবহন শ্রমিক নেতারা জানান, রাজশাহীর আল-মাহি পরিবহন নামে একটি বাসের চালক সাঈদ হাসান সোমবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পরিবহন শ্রমিকদের হাতে মারধরের শিকার হন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি। আর ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার রাতে। সেদিন রাজশাহীর একটি বাসের শ্রমিকদের মারধর করা হয়। এরপর গতকাল রোববার দুই পক্ষ আলোচনা বসে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শ্রমিকেরা আশ্বাস দিয়েছিলেন, তারা আর কোনো মারধর করবেন না। আজকে মিমাংসার জন্য বসার কথা ছিল বলে জানা গেছে।
.png)
জানা যায়, মিমাংসার আশ্বাসের পর আজ সকালে সাঈদ হাসান বাস নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গেলে তিনিসহ তার বাসের তিনজন শ্রমিককে মারধর করা হয়। এছাড়া আল নাহিদ নামের রাজশাহীর আরেকটি বাস চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঢুকলে চালক, তার সহকারীসহ তিনজনকে মারধর করা হয়। এর প্রতিবাদে রাজশাহীর পরিবহন শ্রমিকরা বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। লোকাল, গৌড় স্পেশাল, মহানন্দাসহ সব বাসই বন্ধ রয়েছে। রাজশাহীর ওপর দিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যেতে দেওয়া হচ্ছে না ঢাকা রুটের বাসগুলোকেও।
রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ রাজী জানান, শনিবার রাতে রাজশাহীর একটি বাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজন পরিবহন শ্রমিক ছিলেন। ভাড়া নিয়ে তার সঙ্গে রাজশাহীর বাসের শ্রমিকের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মারামারির পর্যায়ে যায় এবং আমাদের রাজশাহীর শ্রমিককে রকাক্ত করা হয়। এ ঘটনার পর তারা মিমাংসার জন্য বসতেও চেয়েছে। কিন্তু তার আগেই সকালে কয়েকটি বাসের শ্রমিককে মারধর করা হয়েছে। এ কারণে শ্রমিকরা নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন।
তিনি আরও বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম আনার বিষয়টি সমাধান না করে জটিল করছেন। তার ইন্ধনেই রাজশাহীর শ্রমিকদের মারধর করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ারুল ইসলাম আনার বলেন, জাতে আমরা শ্রমিক। কথায় কথায় উত্তেজিত হই, মারধর করি। এভাবেই চলছে।
এদিকে, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। বিকল্প পরিবহন হিসেবে অটোরিকশা ও থ্রি হুইলার চলাচল করছে। তবে বাসের চেয়ে বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের।
মিলন ইসলাম নামের যাত্রী বলেন, আমার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ। আমি ঢাকায় জব করি। বাস বন্ধ থাকায় আমরা চরম দুর্ভোগে পড়েছি। বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে যাত্রীসেবা চালু করার আহ্বান জানান তিনি।