ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার, সন্দেহের তীর ভাড়াটিয়ার দিকে

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৩৮, ৩১ অক্টোবর ২০২৪
গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার, সন্দেহের তীর ভাড়াটিয়ার দিকে
গ্রাফিক্স: ডেইলি বাংলাদেশ

যশোরের শহরে নিজ বাড়ি থেকে শাহানারা বেগম (৫৫) নামে এক গৃহবধূর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে শহরের শেখহাটি বাবলাতলার আদর্শ পাড়ায় এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত শাহানারা বেগম ওই এলাকার আতাউর রহমানের স্ত্রী।

প্রতিবেশী মুনিয়া আক্তার জানান, বুধবার বিকেল থেকে শাহানারা নিখোঁজ ছিলেন। রাতে তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তাদের বাড়িতে সুমন ও বাবলা নামের দুই মাদকাসক্ত যুবক ভাড়া থাকতেন। তাদেরকে গত কিছুদিন ধরে বেশ কয়েকবার ঘর ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হচ্ছিলো। ধরণা করা হচ্ছে- তারা শাহানারা বেগমকে তাদের ঘরে ডেকে নিয়ে তাকে গলাকেটে হত্যা করেছে এবং তার স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে গেছে।

তিনি আরো জানান, স্থানীয়রা সুমন ও বাবলাকে গতকাল বিকেলে ব্যাগ নিয়ে চলে যেতে দেখেছেন। আজ সকালে শাহানারাকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ভাড়াটিয়া সুমন ও বাবলার তালাবদ্ধ ঘরের দরজার নিচে রক্তাক্ত কাপড় দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তাদের ঘরের দরজার তালা ভেঙে গলাকটা লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবার দেওয়া হয়। পুলিশ এসে তার লাশ উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

Advertisement

নিহতের স্বামী আতিয়ার রহমান জানান, মাস তিনেক আগে তাদের বাড়ির দুটি রুম ভাড়া নেন বাবলা। তারা স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে থাকতেন। এক মাস আগে তাদের বাসা ছেড়ে দিতে বলা হয়। কেননা বাবলা আগে ইজিবাইক চালালেও পরে নেশা করতেন। কিন্তু তারা আজ যাই-কাল যাই বলে সময়ক্ষেপণ করছিলেন। চার-পাঁচদিন আগে তার স্ত্রী (বাবলার) ও বাচ্চারা চলে যান। তবে, বাবলা ও তার মামাতো ভাই সুমন বাড়িতে ছিলেন।

বুধবার সকালে বাবলার সঙ্গে কথা কাটাকাটিও হয়। এরপর তিনি বিকেলে ইজিবাইক নিয়ে বের হয়ে যান। স্ত্রীর গলায় থাকা সোনার চেইন, কানের দুল ও মোবাইল ফোনের জন্যে তারা তাকে খুন করে সেগুলো নিয়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানান আতিয়ার রহমান।

স্থানীয়রা জানান, বাবলা ও সুমনের বাড়ি যশোর সদরের তালবাড়িয়া গ্রামে। বাবলার বাবার নাম হোসেন আলী শেখ ও সুমনের বাবার নাম জানা যায়নি।

যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, নিহত শাহানারা পরিচিতের হাতে হত্যা হয়েছে। তার লাশ উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে আমরা ধারণা করছি বাড়ির ভাড়াটিয়া বাবলা ও তার ভাই সুমন এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের মোবাইল ফোন ট্রাকিং করা হচ্ছে। তাদের আটক করা গেলে হত্যার মূল কারণ উদ্ঘাটন সম্ভব হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!