ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

১১ বছরের প্রেম, বিয়ের দাবিতে দুই সপ্তাহ ধরে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:২১, ৩১ অক্টোবর ২০২৪
১১ বছরের প্রেম, বিয়ের দাবিতে দুই সপ্তাহ ধরে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা
প্রেমিকা আফরিন বেগম ও প্রেমিক নাদিম মিয়া

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিয়ের দাবিতে ২ সপ্তাহ যাবত প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন প্রেমিকা। নানাবিধ চেষ্টার পরও উপায় না পেয়ে মেয়ের অধিকার ফেরাতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বাবা-মা। এরমধ্যে একাধিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপেও মিলছে না সমাধান।

ঘটনাটি ঘটেছে পৌর শহরের চণ্ডিবের উত্তর কান্দা পাড়া এলাকার শাহজাহান মিয়ার বাড়িতে। প্রেমিক নাদিম মিয়া (২৬) ওই এলাকার শাহজাহান মিয়ার ছেলে।

প্রেমিকা আফরিন বেগম (১৮) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার শহরের মাইচপাড়া এলাকার আলমগীর মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে প্রেমিকা আসার খবরে প্রেমিক লাপাত্তা হয়ে আছে। বন্ধ করে রেখেছে মোবাইল।

Advertisement

এদিকে, বুধবার উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. রিদওয়ান আহমেদ রাফির কাছে ছুটে গিয়েছিলেন প্রেমিকার বাবা-মা।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের মাঝে চলছে নানান আলোচনা সমালোচনা। প্রথম দিকে প্রেমিকের পরিবার বিয়ের আশ্বাস দিলেও এখন করছে টাল-বাহানা।

জানা যায়, ১১ বছর যাবত নাদিমের সঙ্গে আফরিনের প্রেমের সম্পর্ক। প্রথম দিকে মুঠোফোনে তাদের যোগাযোগ ছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা একে অপরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতেন। ১৫ দিন যাবত নাদিমের সঙ্গে আফরিন কোনো রকম যোগাযোগ করতে না পেরে গত ১৭ অক্টোবর প্রেমিকের বাড়িতে চলে আসেন। অবস্থান নেন প্রেমিকের চাচার ঘরে। বুধবার পর্যন্ত ২ সপ্তাহ যাবত ওই বাড়িতে রয়েছেন প্রেমিকা।

এ বিষয়ের স্থানীয়রা জানান, একটি অবিবাহিত মেয়ে দীর্ঘ দুই সপ্তাহ যাবত এলাকায় আছে। এটা কোনো স্বাভাবিক বিষয় না। আমরা সামাজিকভাবে এটি সমাধান করতে পারিনি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও দুই পক্ষের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রথম দিকে ছেলের বাবা রাজি থাকলেও এখন প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় স্থানীয়দেরও হুমকি ধামকি দিচ্ছে। আমরা চাই প্রশাসনের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হোক। আমাদের এলাকার মানসম্মান যেন নষ্ট না হয়।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ইলিয়াস মিয়া জানান, ইউএনও ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা আসার পর আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিল তদারকি করতে। গত ২২ অক্টোবর রাতে এসে ইউএনও স্যার পরদিন ২৩ অক্টোবর সকাল ১২টার মধ্যে বিয়ে দিয়ে দিতে বলে যান। আমি স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি সমাধান করতে যাই। প্রথম দিকে ছেলের পরিবারের সম্মতি থাকলেও এখন হঠাৎ করে উল্টো পথে হাঁটছে, আমাকে হুমকি-ধামকিও দিচ্ছে। আমি নিজেই আতঙ্কে রয়েছি।

এদিকে সরেজমিনে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায় তার বাবা শাহজাহান মিয়াকে। প্রথমে সাংবাদিকদের দেখে অসাধাচরণ করেন তিনি। কথা বলতে রাজি হননি। পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, আমার সঙ্গে দুই মাস যাবত ছেলের কোনো রকম যোগাযোগ নেই। মেয়েটি পরিকল্পিতভাবে আমাদের বাড়িতে এসেছে। মেয়ের পরিবার আমার কাছে বড় অঙ্কের টাকা দাবি করেছে। স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতিকারী আমার জমি কেড়ে নিতে মেয়েটিকে লেলিয়ে দিয়েছে। আমার ছেলে যদি কোনো অপরাধ করে তাকে খুঁজে বের করে বিয়ে করিয়ে দিন। আমার জমি নিয়ে মামলা চলছে। একটি চক্র সমাজে আমাকে অসম্মানিত করার জন্য উঠে-পড়ে লেগেছে।

এ বিষয়ে মেয়েটির বাবা আলমগীর মিয়া বলেন, আমি নিরুপায়। কাউকে মুখ দেখাতে পারছি না। ছেলের পরিবার আজকে কালকে বলে আমাকে ঘুরাচ্ছে। আমি কোনো সমাধান না পেয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছিলাম। তাতেও কোনো কাজ হয়নি। এখন আবার ছেলের বাবা আমাকে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে।

এ বিষয়ে নাদিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করতে চাইলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. রিদওয়ান আহমেদ রাফি বলেন, আমি দুই পরিবারের সঙ্গেই আলোচনা করে সমাধানের কথা বলে দিয়েছিলাম। এখনো তারা কোনো সমাধান করতে পারেনি। মেয়েটির বাবা আমার কাছে এসেছিলেন। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে মেয়ের পরিবারকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!