ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সরকার নির্ধারিত মূল্যের চাল-আটা কিনতে দীর্ঘ লাইন

দেলোয়ার হোসেন, জামালপুর
প্রকাশিত: ১৮:২৫, ৩১ অক্টোবর ২০২৪
সরকার নির্ধারিত মূল্যের চাল-আটা কিনতে দীর্ঘ লাইন
সরকার নির্ধারিত মূল্যের চাল-আটা কিনতে দীর্ঘ লাইন। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জামালপুর শহরে সরকার নির্ধারিত প্রতি কেজি ৩০ টাকা দরে চাল ও ২৪ টাকা কেজি দরে আটা বিক্রির ডিলারদের দোকানে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দীর্ঘ লাইন বাড়ছে।

বাজারে চাল-ডালসহ নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে ডিলারদের দোকানে ভিড় বাড়ার কথা জানান একাধিক নিম্ন আয়ের জনসাধারণ।

জানা যায়, মঞ্জুরুল হক সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত ১ টন চাল, প্রতি কেজি ৩০ টাকা ও দেড় টন আটা প্রতি কেজি ২৪ টাকা দরে বিক্রি করেন। জামালপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মৃধাপাড়া স্টেশন রোড এলাকার থেকে সকাল ৯টা থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত বিতরণ করেন। 

Advertisement

জামালপুর সদরের বিভিন্ন স্থান থেকে তার দোকান থেকে চাল-আটা নিয়ে যায়। আগে শহরের লোকজন চাল আটা নিতে ভিড় কম থাকলে বাজারে সব জিনিসের দাম বৃদ্ধির ফলে জামালপুর পৌরসভার বাইরে থেকেও অতিদরিদ্র ও হতদরিদ্ররা অতিরিক্ত টাকা খরচে করে একটু কম দামে আটা ও চাল নিয়ে যাচ্ছে শহর থেকে। শহরের তুলনায় গ্রামে লোকজনের সমাগম বেশি থাকার ফলে শহরমুখী হয়েছেন গ্রামের দরিদ্ররা।

জামালপুর সদর উপজেলার শাহবাজপুর থেকে ৬০ বছর বয়সী ফুলবানু এসেছেন আটা নিতে। তিনি চোখে কম দেখেন। কানেও শুনেন না। কোথায় থেকে এসেছেন জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সঠিক জবাবও দিতে পারে না।

বৃদ্ধা ফুলবানু বলেন, ‘শাহবাজপুর থেকে খুবই কষ্ট করে এসেছি বাবা। হামাকে (আমাকে) আগে দিয়া দেও। বাইত (বাড়ি) যাইতে আইত (রাত) হইয়া যাইবো। আমি ঠিক মতো চোহে (চোখে) দেহি না। বাবা হামারে এল্লা দিয়া দেও- দোয়া করুম।’

সঙ্গে আর কে এসেছেন এমন কথা বার বার জিজ্ঞাসা করলেও তিনি কানে সঠিকভাবে না শোনার ফলে জবাব দিতে পারেননি।

সরেজমিন দেখা যায়, তদারকি কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের উপস্থিতে সকাল থেকেই বিতরণ শুরু হয়। তবে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যাই বেশি। আরো জানা যায়, অটোরিকশা ও ভ্যান চালকরা তাদের গাড়ি দাঁড় করিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে চাল-আটা নিয়ে যাচ্ছেন।

৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আগত রিকশাচালক মনিরুল জানান, তাদের ওয়ার্ড থেকে ৫ কেজি তুলতে সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তবে শহরে একটু ভিড় কম। একই সঙ্গে পুরুষের ভিড় কম থাকার ফলে চাল-আটা তুলতে দেরি হয় না। দ্রুত সময়ের মধ্যেই আবারো ভাড়া মারা যায়। তাই যাত্রী নামিয়ে দিয়ে আটা তুললেন।

জামালপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আটা তুলতে এসেছেন মিতু আক্তার। তার সঙ্গে ফুফু এবং দাদিও এসেছেন। তারা সকাল ১১টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে দুপুর ২টার সময় আটা-চাল নিয়ে বাসায় যাচ্ছেন।

মিতু বলেন, আগে এতো ভিড় থাকতো না। বর্তমানে সবকিছুর বাজার দর বেড়ে যাবার ফলে গ্রাম থেকে শহর থেকে সরকার বরাদ্দ চাল-আটা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে লোকজনের ভিড় বাড়ছে প্রতিদিনই।

শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বিল্লাল মিয়া বলেন, ২৪ টাকা কেজি দরে যে আটা ডিলাররা বিক্রি করেন সেটা বাজারে ৫০ থেকে ৬০ টাকাতেও পাওয়া যাবে না। এই আটার গুণগতমান খুবই উন্নত। তাই নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে বিত্তবানদেরও এ আটার প্রতি নজর রয়েছে। তাই দিন যতোই যাচ্ছে এর চাহিদা ততোই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ডিলার মঞ্জুরুল হক বলেন, সকাল ৯টা থেকে শুরু করে একটানা চাল-আটা বিতরণ করা হয়। সরকার থেকে যে পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হয় তা বিতরণ শেষে আরো কিছু লোক ফিরে যায়।

তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে ভিড় ঠেলে ১ টন চাল আর দেড় টন আটা বিতরণ করতে হিমশিম খেতে হয়। সরকারের উচিত বরাদ্দ আরো বৃদ্ধি করে জনগণকে সাহায্য করা।

তিনি আরো বলেন, একদিন পর পর আটা-চালের জন্য ব্যাংকের মাধ্যমে চালান দিতে হয়। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চালান দিতে হয় পরবর্তী দিনের জন্য। আর বিতরণ শেষে মাস্টার রোল অফিসে জমা দিয়ে আবারো ডিও নিয়ে সিংহজানী খাদ্য গুদাম থেকে চাল-আটা উত্তোলন করে নিজস্ব গোডাউনে রেখে সকাল থেকেই বিতরণ করা হয়।

তদারকি কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের দাবি, সঠিকভাবে বিতরণ হচ্ছে কী-না তা সরেজমিন তদন্ত করতে মাঠে একাধিক টিম কাজ করছে। কোনো প্রকার অনিয়ম-দুর্নীতি যেন না হয় সে জন্য সরকার থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: জামালপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!