রাঙ্গামাটির কাউখালি উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের মগাছড়ির দুর্গম গ্রামে ঋতুপর্ণার বাড়ি। ২০২২ সালে প্রথমবার সাফ নারী ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে ঋতুপর্ণার বাড়ি ও চলাচলের রাস্তা নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। সরকারি প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হওয়ায় ঋতুপর্ণার পরিবারে রয়েছে হতাশা।
ঋতুপর্ণার মা ভুজিপতি চাকমা খুবই উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, বাংলাদেশ দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এতে আমরা খুবই খুশি হয়েছি। এলাকাবাসী খুবই আনন্দিত। আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে ও সবার কাছে আমার মেয়ের জন্য আশীর্বাদ চাই, সে যেন দেশে-বিদেশে গিয়ে আরো ভালো খেলা খেলতে পারে।
.png)
তবে ঋতুপর্ণার মা কিছুটা আক্ষেপের সুরে বলেন, গতবার ঋতু চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সরকার থেকে বাড়ি তৈরি করে দেবে এবং চলাচলের রাস্তা তৈরি করে দেবে বলে শুনেছি। কিন্তু এখনো কোনোটিও হয়নি। এতে ঋতুপর্ণা মনে মনে খুব কষ্ট পেয়েছে।
ঋতুপর্ণার কাকা চৈক্যা চাকমা বলেন, ঋতুরা ২য় বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের জন্য যে গৌরব অর্জন করেছে তাতে আমরা গর্বিত। আশীর্বাদ চাই সারা বাংলাদেশের মানুষের কাছে ঋতুপর্ণার জন্য।
তিনি আরো বলেন, গতবারও চেয়েছি, এবারো সরকারের কাছে চাচ্ছি, চলাচলের জন্য একটি রাস্তা ও একটি বাড়ি তৈরি করে দিলে আমাদের পরিবারসহ এই এলাকার মানুষের অনেক উপকার হবে।
রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য জয়নাল আবেদীন জানান, সাফ চ্যাম্পিয়নে ২য় বারের মতো বাংলাদেশ বিজয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রয়েছে পাহাড়ের মেয়ে ঋতুপর্ণা, মণিকা ও রুপনা চাকমা। তাদের এই অবদানে পুরো বাংলাদেশ আজ আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত। দেশের জন্য তাদের যে অবদান সেটি স্বীকার করেই উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা সবসময় তাদের পাশে থাকবে।
ঋতুপর্ণা চাকমার ঘর ও রাস্তা এবং রুপনা চাকমার বাড়ি যাওয়ার রাস্তা নির্মাণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান জানান, যেহেতু তারা দুজন দেশের জন্য এই গৌরব বয়ে এনেছে, তাদের বাড়ি ও রাস্তা তৈরির বিষয়টি তিনি দেখবেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, এদের জন্য সত্যি আমরা গর্বিত। গতবারের মতো এবারো জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে তাদেরকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ অক্টোবর নেপালের কাঠমান্ডু দশরথ স্টেডিয়ামে সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে দেশের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন ঋতুপর্ণা। ২-১ গোলে বিজয়ী হয় বাংলাদেশ। ফাইনাল খেলায় সেরা খেলোয়াড় হন ঋতুপর্ণা চাকমা ও টুর্নামেন্টে সেরা গোলরক্ষক হন রুপনা চাকমা।